Makhonlal Sarkar | এবার রূপোলি পর্দায় মাখনলাল, শুটিং শুরু জুলাইতেই!

Makhonlal Sarkar | এবার রূপোলি পর্দায় মাখনলাল, শুটিং শুরু জুলাইতেই!

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


সৌভিক সেন, শিলিগুড়ি: ব্রিগেডের মাঠ। বঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ। দেশের প্রধানমন্ত্রী চাদর গায়ে পরিয়ে জড়িয়ে ধরলেন তাঁকে। মাইক্রোফোনে তখন পুরোনো দিনের কথা শোনাচ্ছিলেন পদ্মের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তারপরই প্রচারের আলোয় আসা। টিভি চ্যানেলে ইন্টারভিউ, কাগজে লেখালেখি, সংবর্ধনা, বই প্রকাশ, বক্তৃতা, ফিতে কাটা ইত্যাদি এবং ইত্যাদি। খ্যাতির বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে বছর ৯৭-এর মানুষটিকেও।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) সঙ্গী শিলিগুড়ির সূর্যনগরের মাখনলাল সরকারকে (Makhonlal Sarkar) নিয়ে উৎসাহ ছাড়িয়েছে শহর-জেলা-রাজ্য-দেশের গণ্ডিতে। এবার তাঁকে নিয়ে গল্প বলতে চান কৌশিক সেনগুপ্ত। পেশায় তিনি অধ্যাপক আর নেশায় তথ্যচিত্র নির্মাতা। ওপার বাংলা থেকে এপারে আসা, টিকিয়াপাড়ার রেল কোয়ার্টারে বড় হয়ে ওঠা, আরএসএস-এ যোগদান, বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলে সংঘের প্রশিক্ষণ, মহানন্দায় সাঁতার কাটতে গিয়ে ডাকাত ধরা, সুকনা স্টেশন লুট ঠেকানো, বিজেপির হয়ে চোখে চোখ রেখে লড়াই, দেশে ক্ষমতাদখল, বঙ্গ জয়, এই বাংলা ও দেশকে নিয়ে তাঁর স্বপ্ন- নবতিপরের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনেককিছুই থাকছে তথ্যচিত্রে।

বৃহস্পতিবার কৌশিক ও তাঁর সঙ্গী জাভেদ খান কলকাতা থেকে এসেছিলেন মাখনলালের সঙ্গে দেখা করতে। পরিবারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে স্থির হয়েছে কোথায় কোথায় শুটিং হতে পারে। সব ঠিকঠাক থাকলে জুলাই মাস থেকেই কাজ শুরু হওয়ার কথা।

শুধুই কি জীবনকাহিনী?

না। কৌশিক জানালেন, এসবের সঙ্গে থাকছে মাখনলালকে নিয়ে দেশ ও বাংলার বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট মানুষের কথাও। স্বল্প সময়ের জন্য স্ক্রিনে আসবেন তাঁরা।

কৌশিক চাইছেন, তাঁর অন্য সমস্ত কাজের মতো এই তথ্যচিত্রটিও প্রথমে দেখানো হোক চলচ্চিত্র উৎসব বা ফিল্ম ফেস্টিভালে। সেজন্য প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছেন। এদিন মাখনলালের পাশে বসে বলছিলেন, ‘এমন আরও কত রত্ন যে আমাদের দেশে লুকিয়ে আছে, তার খোঁজ কে করে। যেদিন ব্রিগেডের মঞ্চে তাঁকে দেখেছি, সেদিনই ঠিক করে নিয়েছি কাজটি করতে হবে। বেশিরভাগ মানুষ টিভিতে এক-দুই মিনিটের ইন্টারভিউ দেখেছেন। ওই অল্প সময়ে মাখনলালবাবুর মতো মানুষকে চেনাজানা সম্ভব নয়। আমরা আরও বড় পরিসরে পৌঁছাতে চাই তাঁকে নিয়ে।’

কৌশিক ইতিমধ্যে মাধবী মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে ‘তারাদের মাঝে’, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনকে নিয়ে ‘জেনেসিস অফ জিরো’, কল্যাণ সেন বরাটকে নিয়ে ‘গান পথিক’ ইত্যাদি কাজে নিজের ছাপ রেখেছেন। মাখনলালকে নিয়ে তথ্যচিত্রের নাম এখনও রাখেননি। কৌশিকের মতে, শিল্প তাড়াহুড়ো করে হয় না। অনেক ভাবনাচিন্তা-পড়াশোনা করতে হয়, অজানাকে জানতে হয়।
যাঁকে নিয়ে এত পরিকল্পনা, তিনি বিছানার এককোণে চুপ করে বসে। চোখ খোলা দরজা দিয়ে গাছের ডালে বসা একটি পাখির দিকে।

– কেমন লাগছে? তথ্যচিত্র হবে আপনাকে নিয়ে। জনপ্রিয়তা তো দিন-দিন বাড়ছে।

মুচকি হাসলেন মাখনলাল। বললেন, ‘আমার কিছুই চাই না। টাকার জন্য, সুবিধার জন্য পার্টি করিনি কখনও। তাই দলবদল, রংবদলের প্রয়োজন পড়েনি। সবাই ডাকছে, সাড়া দিচ্ছি। যতদিন পারব, যাব।’

– আরও আগে সম্মান পাওয়া উচিত ছিল? আফসোস হয়?

‘শেষ দিন অবধি না পেলেও আফসোস হত না…’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *