অভিরূপ দে, ময়নাগুড়ি: সমগ্র ডুয়ার্সের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মন্দির রয়েছে ময়নাগুড়ি ব্লকে (Mainaguri)৷ তাই এই অঞ্চলকে ‘মন্দিরময় ময়নাগুড়ি’ও বলা হয়। ময়নাগুড়ির জল্পেশ, জটিলেশ্বরের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি প্রাচীন শিব তীর্থ রয়েছে৷ যার মধ্যে অন্যতম হল ভদ্রেশ্বর মন্দির। প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান সমৃদ্ধ প্রচারহীন ভদ্রেশ্বর মন্দিরটি গত কয়েক দশক ধরে পুরোপুরি অনাদরে পড়ে রয়েছে। যদিও সুপ্রাচীন এই মন্দিরকে হেরিটেজ কমিশনের তরফে হেরিটেজ ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছে।
ময়নাগুড়ি ব্লকের বার্নিশ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ভদ্রেশ্বর শিব মন্দিরের চারপাশে রয়েছে নানান প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান। মন্দির চত্বরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পাথরের ওপর খোদাই করা বিভিন্ন নিদর্শন৷ মন্দিরের পশ্চিম দিকে তালপুকুর। পাথরের বড় বড় চাঁই কেটে তৈরি হওয়া এই মন্দিরের সামান্য অংশ মাটির ওপরে রয়েছে। বাকি সবটাই মাটির প্রায় ১৫ ফুট নীচে। সেখানেই রয়েছে শিবলিঙ্গ। মন্দিরের উত্তরদিকে উলটে দেওয়া পিরামিডের আকৃতির মতো ছোট ছোট ইটের তৈরি সুগভীর কূপ। যা এখনও বিরাজমান। নিউ দোমোহনি রেলস্টেশন লাগোয়া এই মন্দিরের এক পাশজুড়ে রেললাইন ও নয়ানজুলি। অন্যপাশে দিগন্তবিস্তৃত কৃষিজমি।
শাল, মহুয়া গাছে ঘেরা সবুজ অংশের মধ্যে থেকে নীল আকাশে মাথা তুলেছে ভদ্রেশ্বর মন্দিরের চূড়া। ময়নাগুড়ি দুর্গাবাড়ি মোড় থেকে মৌয়ামারি গ্রামের মেঠোপথ ধরে সহজেই পৌঁছোনো যায় এই মন্দিরে। ময়নাগুড়ি ভোটপট্টি উচ্চবিদ্যালয়ের ইতিহাসের শিক্ষক মানিক ঘটক বললেন, ‘রাজা জল্পেশ্বরের আমল থেকেই এই অঞ্চলে শৈব ধর্মের প্রসার ঘটে। এই শৈব ধর্মেরই একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ ভদ্রেশ্বর মন্দির। যদিও জল্পেশ মন্দিরের জনপ্রিয়তার কারণে ভদ্রেশ্বর মন্দির গুরুত্ব হারিয়েছে। খননকাজ হলে অনেক নতুন ঐতিহাসিক তথ্যের সন্ধ্যান পাওয়া যেতে পারে।’
১৯৬৮ সালের ভয়াবহ বন্যার সময়েও মন্দিরের কোনও অংশে জল ওঠেনি। এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, কথিত আছে, বাবা জল্পেশের দাদা ছিলেন ভদ্রেশ্বর৷ তাই গ্রামবাসী বিশ্বাস করেন, জল্পেশের থেকে বয়সে বড় এই দেবতা। সব মিলিয়ে এলাকাবাসীর কাছে বেশ জাগ্রত এই মন্দির।
