উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) ভাঙন নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল, তখন দলের বিদ্রোহী সাংসদদের কার্যত ‘মেরুদণ্ডহীন’ বলে আক্রমণ করলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। বিশেষ করে বহরমপুরের সাংসদ ও প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানের (Yusuf Pathan) ওপর সরাসরি তোপ দেগেছেন তিনি। সোমবার যখন খবর আসে যে, ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এনডিএ-তে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, তখন ইউসুফের অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করতে দিল্লি যাওয়ার বিষয়টি ঘিরেই মহুয়ার এই আক্রমণ।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ মহুয়া মৈত্র লিখেছেন, “আমাদের জেলার মানুষ বিপুল ভোটে আপনাকে জিতিয়েছিল। একটু লজ্জা রাখুন এবং মেরুদণ্ড সোজা রাখুন।” ইউসুফ পাঠানকে উদ্দেশ্য করে মহুয়ার খোঁচা, “ক্রিকেটের মাঠে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করার সময় যে সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন, রাজনীতিতে অন্তত সেইটুকু দেখান।”
শুধু ইউসুফ পাঠান নন, দলের বিদ্রোহী অংশকেও একহাত নিয়েছেন মহুয়া। তিনি সরাসরি দলের বিদ্রোহী নেতাদের ‘সম্পূর্ণ অযোগ্য’ ও ‘অপদার্থ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর কথায়, “এঁরা সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যারিশমায় এতদিন টিকে ছিলেন, নিজেদের কোনো অস্তিত্ব নেই।” ১৯৯৮ সালে তৃণমূল গঠনের পর দল যখন সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি, তখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে অটল মহুয়া।
তৃণমূলের মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে এনডিএ-কে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। তবে বিদ্রোহী শিবিরের একটি সূত্র জানাচ্ছে, তারা এখনই তৃণমূল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করছেন না বা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না। দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-defection regulation) কোপ থেকে বাঁচতেই তারা আলাদা সংসদীয় গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মহুয়া মৈত্রের এই তীব্র আক্রমণ তৃণমূলের অন্দরের গৃহযুদ্ধকে আরও বাড়িয়ে দিল। ইউসুফ পাঠান বা বিদ্রোহী সাংসদদের পক্ষ থেকে পাল্টা কোনো প্রতিক্রিয়া আসে কি না, সেটাই এখন দেখার।
