Mahua Moitra | মুখ্যসচিবকে ‘ভোটচোর’ কটূক্তি কাণ্ড, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মহুয়াকে পোস্ট ডিলিট ও ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ আদালতের

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে (Manoj Agarwal) সামাজিক মাধ্যমে ‘ভোটচোর’ বলে আক্রমণ করার জেরে বড়সড়ো আইনি বিপাকে পড়লেন মমতা তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি ছিল আলিপুর আদালতে, যেখানে বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট মুছে ফেলতে হবে মহুয়াকে। একই সঙ্গে তাঁকে লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সরকারি আধিকারিককে নিয়ে এই ধরনের কোনো মানহানিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী বছরের ৫ জানুয়ারি।

গত ৩ ও ৬ অক্টোবর নিজের অফিশিয়াল এক্স (এক্স হ্যান্ডল) অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে রাজ্যের মুখ্যসচিব তথা প্রাক্তন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইও) মনোজ আগরওয়ালকে ‘ভোটচোর’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর যুক্তিতে দাবি করা হয়েছিল, এসআইআর (SIR)-এর নামে প্রচুর বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার সমতুল্য। সেই প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে মুখ্যসচিবকে সরাসরি নিশানা করে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘দেশ এবার আপনাকে ধাওয়া করবে। ছাড় পাবেন না।’’ মহুয়ার এই আক্রমণাত্মক পোস্টগুলির বিরুদ্ধে পালটা আইনি পদক্ষেপ নেন মুখ্যসচিব। তাঁর আইনজীবীর আদালতে স্পষ্ট সওয়াল ছিল, কোনোরকম ভোট চুরির ঘটনা ঘটেনি, বরং নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ও আইনি নিয়ম মেনেই রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ আইনসিদ্ধ।

মামলার পর্যালোচনায় আলিপুর আদালত উল্লেখ করেছে যে, মহুয়ার পোস্টগুলিতে শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সমালোচনা করা হয়নি, বরং কোনো উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই সরাসরি মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে কাজ করার গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। আদালতের মতে, জনস্বার্থের স্বার্থে প্রশাসনিক কোনো সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার গণতান্ত্রিক অধিকার সবারই রয়েছে, তবে সেই সমালোচনার আড়ালে কোনো ব্যক্তিবিশেষ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবমাননাকর ও মানহানিকর মন্তব্য মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। সেই নিরিখেই মহুয়ার পোস্টগুলিকে আপত্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করে আদালত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা অপসারণের নির্দেশ দেয়। এর পাশাপাশি মানহানির ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ কোটি টাকা এবং আইনি খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *