উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: প্রকৃতির রোষ আর প্রশাসনের অবহেলার এক চরম নিদর্শন দেখল মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) পালঘর। একদিকে প্রিয়জনকে হারানোর শোক, অন্যদিকে প্রবল বন্যার হাত থেকে বাঁচার লড়াই— এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে হল পালঘরের দেবীপাড়া (Devipada) এলাকার এক অসহায় পরিবারকে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে বাড়ির ভেতরে জল ঢুকে যাওয়ায় শেষকৃত্য সম্পন্ন না করতে পেরে, মৃতদেহ নিয়ে বাধ্য হয়ে বাড়ির টিনের চালে আশ্রয় নিতে হল পরিবারের সদস্যদের।
গত ৬ জুলাই, পালঘরের (Palghar) দেবীপাড়া এলাকায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা অনুসূয়া মনোহর লীলাকা (৫৫) দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা যান। পরিবারের সদস্যরা যখন তাঁর শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই প্রবল বৃষ্টিতে বন্যার জল হু-হু করে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে শুরু করে।
পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, বাড়ির নিচতলায় থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে ওই পরিবারের সদস্যরা অনুসূয়ার নিথর দেহটি নিয়ে বাড়ির টিনের চালের ওপর উঠতে বাধ্য হন। দীর্ঘ চার ঘণ্টা তাঁদের এই অবস্থায় কাটাতে হয়। বন্যার জল কিছুটা কমলে তবেই তাঁদের পক্ষে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
এই ঘটনায় দেবীপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দুর্দিনে প্রশাসনের তরফ থেকে পরিবারটির পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। বিপর্যয়ের মুখে পড়েও কোনো সরকারি সহায়তা বা উদ্ধারকারী দল দ্রুত পৌঁছায়নি বলে তাঁদের দাবি। এই অমানবিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে সর্বত্র।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রতি বছরই বর্ষাকালে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও প্রশাসন স্থায়ী কোনো সমাধান করছে না। এবার এক মর্মান্তিক মৃত্যুর পর পরিবারটিকে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

