ফাঁসিদেওয়া: রবিবারের ছুটির দিনে শিলিগুড়ির অদূরে ফুলবাড়ির মহানন্দা ব্যারেজে (Mahananda Barrage) স্নান করতে গিয়ে তলিয়ে গিয়েছিল দুই স্কুলছাত্র। ঘটনার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সকালে অবশেষে ঘটনাস্থলের অদূরেই দুই কিশোরের নিথর দেহ খুঁজে পান উদ্ধারকারীরা (College students Deadbody Discovered)। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরের দিকে স্থানীয় একটি নামী বেসরকারি ইংরেজিমাধ্যম স্কুলের দশম শ্রেণির তিন ছাত্র মহানন্দা ব্যারেজ সংলগ্ন এলাকায় নেমেছিল স্নান করার উদ্দেশ্যে। শুরুতে নদীর জলপ্রবাহ কম থাকলেও হঠাৎই ব্যারেজের গেট খুলে জল ছাড়ার কারণে জলস্তর এবং স্রোতের তীব্রতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। চোখের পলকে স্রোতের তোড়ে ভেসে যেতে থাকে তারা। উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় একজনকে তাৎক্ষণিকভাবে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্য দুজন জলের গভীরে হারিয়ে যায়।
নিখোঁজ দুই ছাত্রের মধ্যে একজন মালদার বাসিন্দা প্রজ্ঞাজ্যোতি দাস এবং অন্যজন বাংলাদেশের নাগরিক মহম্মদ সাফায়েল হোসেন নৌসাদ। দুজনেই ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক হস্টেলে থেকে পড়াশোনা চালাত। ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রশাসন, সিভিল ডিফেন্স এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যৌথভাবে উদ্ধারকাজে নেমে পড়ে। পরবর্তীতে সোমবার সকাল থেকে এনডিআরএফ-এর (NDRF) দক্ষ ডুবুরি দল এবং স্পিডবোটের সাহায্য নেওয়া হয়।
নদীর সঠিক কোন অংশে তারা তলিয়ে গিয়েছিল, তা নিখুঁতভাবে চিহ্নিত না থাকায় জলের প্রবল স্রোতে তল্লাশি অভিযানে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয় উদ্ধারকারী দলকে। এদিকে শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং গোটা পরিস্থিতি নিজে খতিয়ে দেখতে সোমবারই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ফাঁসিদেওয়ার বিডিও বনানী মজুমদার। তিনি পড়ুয়াদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম প্রশাসনিক সাহায্যের আশ্বাস দেন। খবর পেয়েই মালদা থেকে প্রজ্ঞাজ্যোতির পরিবার ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।
অবশেষে মঙ্গলবার সকালে এনডিআরএফ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দলের নিরলস যৌথ অভিযানে নিখোঁজ হওয়া স্থান থেকে মোটামুটি ২০০ মিটার দূরত্বে মহানন্দা নদী থেকেই দুটি দেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য দেহ দুটিকে ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

