উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে চলেছে এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik Examination 2026)। রাজ্যজুড়ে কয়েক হাজার কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ২ লক্ষ পরীক্ষার্থী জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বসতে চলেছেন। পর্ষদের তরফে যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে থাকলেও, পরীক্ষার দিনগুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষকের উপস্থিতি নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। শিক্ষকদের বুথ লেভেল অফিসার (BLO) হিসেবে নিয়োগ করা নিয়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে তৈরি হওয়া ঠান্ডা লড়াই এখন চরম রূপ নিয়েছে।
পর্ষদ সূত্রে খবর, প্রায় ৫২ হাজার শিক্ষক বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত। পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়ের আশঙ্কা, শিক্ষকরা যদি বিএলও-র কাজে ব্যস্ত থাকেন, তবে মাধ্যমিক পরীক্ষার দিনগুলিতে সেন্টারে ‘গার্ড’ দেবেন কারা? পর্ষদের দাবি, মাধ্যমিক চলাকালীন শিক্ষকদের পূর্ণ সময়ের জন্য অন্য সব কাজ থেকে নিষ্কৃতি দিতে হবে। এই মর্মে গত দুই মাসে কমিশনকে দু’টি চিঠি দেওয়া হলেও পর্ষদের অভিযোগ, কমিশনের তরফে কোনো সদর্থক উত্তর মেলেনি। যদিও নির্বাচন কমিশন এই ধরনের কোনো চিঠি পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু পর্ষদের এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে জানিয়েছেন, শিক্ষকদের বিএলও নিয়োগের বিষয়টি রাজ্যকে আগে থেকে জানানো হয়নি। পরীক্ষার কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে তিনি আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। অন্যদিকে, এই ইস্যুতে কেন্দ্র-রাজ্য তরজাও শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বিষয়টিকে রাজ্য ও পর্ষদের ‘অভ্যন্তরীণ ব্যাপার’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তাঁর কটাক্ষ, “তৃণমূলের মূল উদ্দেশ্য হলো যে কোনো প্রকারে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া বন্ধ করা।”
সব মিলিয়ে, পরীক্ষার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে শিক্ষক জট না কাটায় দুশ্চিন্তায় অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা। পর্ষদ ও কমিশনের এই ইঁদুর-দৌড়ে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে কি না, এখন সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন।
