মাদারিহাট: বুধবার সন্ধা পৌনে ৬ টা নাগাদ বাড়ির সামনেই হাতির হানায় (Elephant assault) মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। মাদারিহাট (Madarihat) মধ্য ছেকামারির কাদের আলিকে (৪৩) সন্ধা রাতেই পিষে মারার ঘটনায় উত্তেজিত জনতা মাদারিহাট গ্রামীণ হাসপাতালে (Madarihat Rural Hospital) এসে নর্থ খয়েরবাড়ির বিট অফিসারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাদের অভিযোগ, বিট অফিসার বিধান চন্দ্র দে ঠিকমতো ডিউটি করেন না। গ্রামে যাতায়াতের কোনও ভালো রাস্তা নেই। নর্থ খয়েরবাড়ি ফরেস্ট থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরেই ওই গ্রাম। অথচ নেই কোনও সুরক্ষার ব্যবস্থা। নেই কোনও সোলার লাইট।
ঘটনা প্রসঙ্গে কাদের আলির ছেলে মেহেবুব আলি জানান, তার বাবা পেশায় ভুটভুটি চালক। বাবার রোজগারে তাদের পাঁচজনের সংসার চলত। গতকাল বিকালে তার বাবা ছেকামারির বড় টাওয়ার বাজারে গিয়েছিলেন। বাজার করে বাইক নিয়ে সবেমাত্র বাড়ির সামনে এসেছেন। ওই সময়ই হাতি আক্রমণ করে এবং পিষে মেরে ফেলে।
মাদারিহাট রেঞ্জের রেঞ্জার শুভাশিস রায় বলেন, ‘ওই পরিবার সরকারি নিয়মে একজনের চাকরি ও পাঁচ লাখ টাকা পাবেন।’ এদিকে ঘটনার খবর পেয়েই মাদারিহাট গ্রামীণ হাসপাতালে আসেন আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ দীপনারায়ন সিনহা। তিনি জানান, ‘আমরা ডিএফওকে বলে একটা ইলেক্ট্রিক ফেন্সিংয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবো। আর সরকারি নিয়মে যা সুযোগ সুবিধা দেওয়ার সব পাবে।’
আবার গতকাল রাত সাড়ে ১১ টা নাগাদ শ্বশুর বাড়ি থেকে বাড়ি ফিরছিলেন সোনাই মুন্ডা, স্বামী সীতারাম মুন্ডা ও মেয়ে লক্ষ্মী। হঠাৎই রাস্তার উপর আক্রমণ করে মাকনা হাতিটি। ঘটনাস্থলেই মারা যান সোনাই ও লক্ষ্মী। বাড়ি মধ্য খয়েরবাড়ি।
এলাকার মানুষজনের দাবি, প্রায় প্রতিদিন সন্ধে হতে না হতেই এলাকায় হাতির উপদ্রব শুরু হচ্ছে এলাকায়। একদম রাস্তার উপর ও বাড়ির মধ্যে চলে আসছে। আর তারপর হামলা চালাচ্ছে। এই ঘটনায় এলাকার বাসিন্দারা যথেষ্ট আতঙ্কিত। বুনোহাতি তাড়াতে বন দপ্তর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ায় বন দপ্তরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে।
