উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাবে ভারতে রান্নার গ্যাসের (LPG) আকাল তৈরি হতে পারে— গত কয়েকদিনের এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দেশে এলপিজি-র কোনো ঘাটতি নেই এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত।
১০ শতাংশ উৎপাদন বৃদ্ধি: অ্যাকশনে তেল শোধনাগারগুলি
সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তেল শোধনাগারগুলিকে উৎপাদনের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই মোতাবেক শোধনাগারগুলি এলপিজি উৎপাদন প্রায় ১০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে দেশের সবকটি রিফাইনারি ১০০ শতাংশ কর্মক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে যাতে জ্বালানির জোগানে বিন্দুমাত্র টান না পড়ে।
কালোবাজারি রুখতে কড়া আইনি কবচ
মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে কেন্দ্রীয় সরকার অপরিহার্য পণ্য আইন (Important Commodities Act) প্রয়োগ করেছে। তবে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ‘এসমা’ (ESMA) বা জরুরি পরিষেবা রক্ষণাবেক্ষণ আইন জারির প্রয়োজন পড়েনি। এছাড়া, বণ্টনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নজরদারির সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে।
বিশ্ববাজারের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে ভারত
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইনে বাধা সত্ত্বেও ভারত বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি করেছেন সরকারি আধিকারিকরা। ভারতের হাতে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং বিদেশ থেকে আমদানির ধারা বজায় রাখতে একাধিক দেশের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখছে সাউথ ব্লক।
সোশ্যাল মিডিয়ার গুজবে কান দেবেন না
সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে গ্যাস সংকটের যে দাবি করা হয়েছিল, তাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ সরকার। বরং একে ‘অহেতুক আতঙ্ক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে:
• সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো যাচাই না করা তথ্যে বিভ্রান্ত হবেন না।
• কোনোভাবেই আতঙ্কিত হয়ে বাড়িতে বাড়তি সিলিন্ডার মজুত করবেন না।
গৃহস্থের হেঁশেলই সরকারের ‘টপ প্রায়োরিটি’
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সামান্য টানাপড়েন থাকলেও, সাধারণ মানুষের রান্নার গ্যাসের (Home LPG) জোগানে কোনো প্রভাব পড়তে দেওয়া হবে না বলে ফের আশ্বস্ত করেছে মন্ত্রক। সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষাই এই মুহূর্তে সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
