উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে গত বেশ কিছুদিন ধরে দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের জোগান কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। সাধারণ গ্রাহকদের সময়মতো গ্যাস পেতেও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মাঝেই কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে—গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা এবং ভর্তুকি চালু রাখতে হলে অবিলম্বে সম্পন্ন করতে হবে ই-কেওয়াইসি (LPG gasoline eKYC deadline)। নির্দিষ্ট এই কাজ না করলে আগামী ১৫ অগাস্টের পর থেকে বড় বিপাকে পড়তে পারেন গ্রাহকরা।
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ অগাস্টের মধ্যে রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা বাধ্যতামূলক। হাতে সময় আর মাত্র কয়েকদিন। এই নির্দিষ্ট ডেডলাইনের মধ্যে ই-কেওয়াইসি না করা হলে স্বাভাবিক নিয়মে গ্যাস বুক করে সিলিন্ডার পাওয়া যাবে না। এমনকি ভর্তুকির টাকাও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
পরিস্থিতি এমনই দাঁড়াবে যে, তখন খোলাবাজার থেকে চড়া দামে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হবেন গ্রাহকরা। বর্তমানে কলকাতায় ১৪ কেজির গার্হস্থ্য গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৯৬৮ টাকা। আর ‘উজ্জ্বলা যোজনা’র উপভোক্তারা এর সঙ্গে অতিরিক্ত ৩০০ টাকা ভর্তুকি পান। কিন্তু সময়মতো ই-কেওয়াইসি না করা হলে এই ভর্তুকি তো মিলবেই না, উলটে বাণিজ্যিক মূল্যে খোলাবাজার থেকে গ্যাস কিনতে হতে পারে, যার বর্তমান দাম প্রায় ১৮৭৩ টাকা। তবে তেল সংস্থাগুলির সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৯৩ থেকে ৯৫ শতাংশ গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশজুড়ে গ্যাসের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও একটি অসাধু চক্র গৃহস্থালির সস্তা ভর্তুকিযুক্ত গ্যাস সিলিন্ডার অবৈধভাবে হোটেল, রেস্তোরাঁ বা কলকারখানার মতো বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে পাচার করছে। এর ফলে একদিকে যেমন কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই কালোবাজারি ও অপব্যবহার সম্পূর্ণ রুখতেই সরকারের তরফ থেকে এই কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে।
ঘরে বসে কীভাবে করবেন ই-কেওয়াইসি?
গ্রাহকদের সুবিধার জন্য ই-কেওয়াইসি করার ক্ষেত্রে একাধিক সহজ উপায় রাখা হয়েছে:
- মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে: গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিপণনকারী সংস্থা (যেমন— ইন্ডিয়ান অয়েল, এইচপি বা ভারত গ্যাস)-র অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই এই প্রক্রিয়া সারতে পারবেন।
- ফেস স্ক্যান অ্যাপ: ‘আধার ফেসআরডি’ (Aadhaar FaceRD) অ্যাপের মাধ্যমে স্মার্টফোনের সাহায্যেই নিজের মুখ স্ক্যান করে ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করা সম্ভব।
- ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে গিয়ে: অনলাইনে সমস্যা হলে গ্রাহকরা সোজাসুজি নিজেদের গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক অর্থাৎ আঙুলের ছাপ (Fingerprint) বা আইরিস স্ক্যানের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করিয়ে নিতে পারেন।

