উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ বিরোধীদের প্রবল বিক্ষোভ ও আপত্তির জেরে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাস করানো (Lok Sabha delimitation invoice) নিয়ে গভীর চিন্তায় পড়েছে কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদি সরকার। চলতি বাদল অধিবেশনেই এই বিল আদৌ পাস করানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় সংশয়। এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয় কেন্দ্র। বুধবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধির সঙ্গে বৈঠক করেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। কিন্তু প্রায় এক ঘণ্টার ওই বৈঠকে কোনো রফাসূত্র মেলেনি বলেই রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
একটি বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, সংসদে চলা বর্তমান অচলাবস্থা কাটাতে রাহুলের সহযোগিতা চান কিরেন রিজিজু। পাশাপাশি, আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল পুনরায় সংসদে পেশ ও পাস করানোর ক্ষেত্রেও কংগ্রেসের সাহায্য চাওয়া হয়। যদিও সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে যে, রিজিজুর সেই প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন রাহুল গান্ধি।
সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ও অচলাবস্থা কাটানোর জন্য সরকারের কাছে দুটি স্পষ্ট শর্ত রাখেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা: ১. রামমন্দিরের প্রণামী চুরি সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে। ২. গত ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সংসদ অভিযানের দিন পড়ুয়াদের ওপর পুলিশের ‘নিপীড়ন’ নিয়ে সংসদে স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাকে বিবৃতি দিতে হবে।
রাহুলের সঙ্গে এই বৈঠকের পর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শায়ের সঙ্গেও দেখা করে পুরো বিষয়টি জানান কিরেন রিজিজু।
এর আগে একবার প্রাথমিক বাধা তৈরি হলেও, চলতি বাদল অধিবেশনেই লোকসভায় আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাস করাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কেন্দ্র। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এই বিল পাস করানোর জন্য সংসদের উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। যদিও শিবসেনা (ইউবিটি) এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মতো বিরোধী শিবিরে সাম্প্রতিক ভাঙনের পর সরকারপক্ষের একাংশের ধারণা ছিল বিল পাস করানো তুলনামূলক সহজ হবে। তবে বিরোধীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে এবং একটি বৃহত্তর ঐকমত্য তৈরি করতে চাইছে কেন্দ্র।
বুধবারের বৈঠকে রিজিজু আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে কংগ্রেসের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চান। উত্তরে রাহুল জানিয়ে দেন যে, এই বিষয়ে কংগ্রেস দল আগেই তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছে। সংসদে সবিস্তার এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা ছাড়া তাঁরা এই বিলকে কোনোভাবেই সমর্থন করবেন না।
সিজেপি-র বিক্ষোভে পড়ুয়াদের ওপর পুলিশের মারধরের অভিযোগ তুলে সংসদের অন্দরে ও বাইরে লাগাতার বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র সাংসদেরা। তাঁদের মূল দাবি, এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাকে সংসদে এসে বিবৃতি দিতে হবে এবং পুলিশের ‘দমনমূলক আচরণের’ জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। এর পাশাপাশি, রামমন্দিরের প্রণামী চুরি নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি (এসপি)-র মতো দলগুলি। বিরোধীদের এই বেনজির বিক্ষোভের জেরে বুধবারও দফায় দফায় মুলতুবি রাখার পর শেষ পর্যন্ত লোকসভা ও রাজ্যসভার পুরো দিনের অধিবেশনই মুলতুবি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

