উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বুকে সংক্রমণ, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ফের দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) (BJP) প্রবীণ নেতা তথা দেশের প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণীকে (LK Advani hospitalised)। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ ৯৮ বছর বয়সি এই বর্ষীয়ান নেতাকে দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তাঁকে হাসপাতালের পালমোনারি বিভাগে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং এক বিশেষ চিকিৎসকদের দল তার শারীরিক পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় বেশ কিছু পরীক্ষানিরীক্ষা করা হচ্ছে এবং চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।
বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতার কারণে গত কয়েকমাসে বেশ কয়েকবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসেও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁকে অ্যাপোলো হাসপাতালে আনা হয়েছিল এবং কিছুদিন চিকিৎসার পর তিনি বাড়ি ফিরে যান। এছাড়াও ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে এই হাসপাতালেই ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়েছিল। সে সময় একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলে এবং চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন যে ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
১৯২৭ সালের ৮ নভেম্বর বর্তমান পাকিস্তানের (Pakistan) করাচিতে জন্ম নেওয়া লালকৃষ্ণ আডবাণী ভারতীয় জনতা পার্টির ইতিহাসের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। একটি ছোট রাজনৈতিক দল হিসেবে শুরু হওয়া বিজেপিকে আজকের এই শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে আসার পেছনে তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। একাধিকবার দলের জাতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি ১৯৯০ সালে তার ঐতিহাসিক ‘রাম রথ যাত্রা’ দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছিল, যা দলের পরিধি সারা দেশে বিস্তৃত করতে সাহায্য করে।
অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের আমলে ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দেশের উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলান আডবাণী। একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেছেন। জনজীবনে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতাকে সম্মান জানিয়ে ২০২৪ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘ভারত রত্ন’ প্রদান করা হয়। এর আগে ২০১৫ সালে তাকে ‘পদ্ম বিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল। রাজনীতি ও দেশের ইতিহাসে এক অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে আডবাণী এখনও সর্বমহলে শ্রদ্ধার পাত্র।

