উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল: ফুটবল জগতের ‘ঈশ্বর’ লিওনেল মেসি যখনই মাঠে নামেন, কোটি কোটি ভক্তের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। সম্প্রতি ভারত সফরে এসেছিলেন এই মহাতারকা, কিন্তু সেই সফর ঘিরে এখন দানা বেঁধেছে চরম বিতর্ক। সল্টলেক স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলা এবং আয়োজক শতদ্রু দত্তের গ্রেপ্তারের পর একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এই সফরের জন্য মেসিকে কত টাকা দেওয়া হয়েছে এবং ভারত সরকার কত টাকা কর (Tax) পেয়েছে, তা শুনলে কপালে চোখ উঠতে বাধ্য।
মেসির পকেটে কত? সরকারের ঘরে কত?
তদন্তকারী দলের (SIT) কাছে আয়োজক শতদ্রু দত্ত জানিয়েছেন, মেসির এই ভারত সফরের জন্য মোট ১০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল। এর মধ্যে খোদ লিওনেল মেসিকে সাম্মানিক হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৮৯ কোটি টাকা। আর বাকি ১১ কোটি টাকা জমা পড়েছে ভারত সরকারের রাজকোষে কর হিসেবে। ভাবা যায়! মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য ভারতে এসে কয়েক জন প্রভাবশালী ব্যক্তির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ আর কয়েক মিনিট মাঠে উপস্থিত থাকার জন্য এত বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
বিব্রত মেসি ও সল্টলেকের বিশৃঙ্খলা
টাকা তো প্রচুর খরচ হয়েছে, কিন্তু অভিজ্ঞতা? তা একেবারেই সুখকর ছিল না ‘এল এম টেন’-এর কাছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সল্টলেক স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলার জেরে মেসি অত্যন্ত অসন্তুষ্ট ছিলেন। বিশেষ করে ভক্তদের অযাচিত ছোঁয়া বা পিঠ চাপড়ানো এবং জড়িয়ে ধরা তিনি একেবারেই পছন্দ করেননি। নিরাপত্তায় বড়সড় গাফিলতি থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়েন তিনি। জনৈক ‘প্রভাবশালী’ ব্যক্তির চাপে আয়োজকরা অতিরিক্ত পাশ বিলি করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে হাতের বাইরে নিয়ে যায়।
ফুটবল উন্নয়নে ১০০ কোটি: আক্ষেপের খতিয়ান
মেসির মতো তারকাকে চোখের সামনে দেখা অবশ্যই বড় প্রাপ্তি, কিন্তু সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে একটা বড় প্রশ্ন উঠছে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১০০-র বাইরে থাকা ভারতের ফুটবল পরিকাঠামো যখন ধুঁকছে, তখন কি এই ১০০ কোটি টাকা অন্যভাবে ব্যবহার করা যেত না? আমাদের দেশীয় ফুটবল লিগগুলো অর্থের অভাবে ধুঁকছে, ছোটবেলায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো ভালো অ্যাকাডেমির অভাব সর্বত্র।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ১০০ কোটি টাকা দিয়ে সারা দেশে অন্তত ২০টি বিশ্বমানের ফুটবল অ্যাকাডেমি গড়া যেত বা তৃণমূল স্তরের খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা যেত। যে দেশে ফুটবলের মক্কা হিসেবে পরিচিত কলকাতাতেও মেসির যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেল না, সেখানে শো-অফের জন্য এত টাকা খরচ কি সত্যিই বুদ্ধিমানের কাজ? ফুটবল প্রেমীদের দাবি, এই অর্থ যদি দেশের ফুটবলের ভিত শক্ত করতে খরচ হতো, তবে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে ভারতকেও আমরা ফুটবল বিশ্বকাপে দেখতে পেতাম।
মেসির সফর শেষ হয়েছে বিতর্কের বোঝা কাঁধে নিয়ে। এখন প্রশ্ন একটাই—শো-অফ নাকি পরিকাঠামো উন্নয়ন, ভারতের ফুটবলের জন্য কোনটি আগে প্রয়োজন?
