উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে রেকর্ড ভাঙা আর গড়ার খেলা চলতেই থাকে। কিন্তু কিছু রেকর্ড থাকে যা সময়ের পরীক্ষায় এতটাই দুর্লভ যে, সেগুলো অর্জন করাই কিংবদন্তি হওয়ার শ্রেষ্ঠ সংজ্ঞা। এমনই এক ঐতিহাসিক রেকর্ডের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। আজ রাতে স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা ফাইনালে জয়ী হলে, ফুটবল ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার অনন্য নজির গড়বেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
এক নজিরবিহীন ইতিহাস: ১৯৩০ সাল থেকে বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিটি আসরেই ভিন্ন ভিন্ন অধিনায়ক বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তুলেছেন। ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) এবং ব্রাজিল (১৯৫৮ ও ১৯৬২) পরপর দুবার বিশ্বকাপ জিতলেও, তাদের অধিনায়ক ছিলেন আলাদা। ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের নেতৃত্বে ছিলেন বেলিনি, আর ১৯৬২ সালে মাওরো রামোস। ফলে ফুটবল বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে পরপর দুবার শিরোপা জয়ের স্বাদ আজও কারো কপালে জোটেনি। আজ আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে সেই শূন্যস্থান পূরণ করবেন লিওনেল মেসি।
মেসির স্বপ্ন ও সংগ্রামের পথ: ২০০৬ সালে কিশোর প্রতিভা হিসেবে যাত্রা শুরু করা মেসির বিশ্বকাপ জয়ের পথটি ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষা, বেদনা আর অদম্য লড়াইয়ের গল্প। ২০১৪ সালের ফাইনালের হৃদয়ভাঙা হার কিংবা ২০১৮ সালের চরম হতাশাকে সঙ্গী করে তিনি এগিয়ে গিয়েছেন। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করে পূর্ণ করেছেন নিজের অপূর্ণতা। সেই আসরে তিনি জিতেছিলেন গোল্ডেন বলও, যা তাঁকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের একমাত্র দুবারের গোল্ডেন বলজয়ী ফুটবলারের মর্যাদা দেয়।
নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পরীক্ষা: বিশ্বকাপ শুধু সেরা দলের লড়াই নয়, এটি একজন অধিনায়কের নেতৃত্বের চূড়ান্ত পরীক্ষা। কোটি মানুষের স্বপ্ন আর ড্রেসিংরুমের ভারসাম্য রক্ষা করে দলকে ট্রফি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। হোসে নাসাসি থেকে শুরু করে ববি মুর, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, দিয়েগো ম্যারাদোনা কিংবা হুগো লরিস—সবাই ট্রফি হাতে নিয়ে অমরত্ব পেয়েছেন। কিন্তু মেসি আজ নামছেন এমন এক উচ্চতায় পৌঁছাতে, যেখানে আগে কেউ পৌঁছাতে পারেননি।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা: দেশের প্রখ্যাত ফুটবল তারকা ইমতিয়াজ সুলতান জনি এই বিষয়ে বলেন, “আজ মেসি ফুটবল ইতিহাসের সেই অনন্য রেকর্ড গড়তে পারেন। আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলেই তিনি হবেন সেই গর্বিত অধিনায়ক, যা আজ পর্যন্ত কেউ করতে পারেননি। তিনি সেই অসাধ্য সাধন করবেন এবং এই রেকর্ড কোন জনমে কে ভাঙতে পারবে, তা এখন কল্পনাতীত।”
আজকের ফাইনালের মঞ্চে স্পেন বাধা টপকাতে পারলেই মেসি কেবল নিজের সাফল্যকেই ছাড়িয়ে যাবেন না, বরং ফুটবল ইতিহাসে এমন এক অধ্যায় লিখবেন যা আগামী বহু প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

