২৩ বছর ধরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে কাজ করেছে। দেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশারফের নিরাপত্তার দায়িত্বেও ছিল। পাক সেনার একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ মিশনে কাজ করার পর সেই মুসা যোগ দেয় জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবায়। সেনার প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ এবং জঙ্গি নেটওয়ার্ক ছড়ানো-দু’টোই চালাচ্ছিল মুসা। অবশেষে মঙ্গলবার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়েছে সেনার গুলিতে।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বদগাম জেলার ইউসমার্গের কোরাগ অঞ্চলে অভিযান শুরু করেছিল যৌথবাহিনী। জঙ্গল ঘেরা ওই অঞ্চলে জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার খবর পেয়ে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় তল্লাশি। পিছু হঠার জায়গা না পেয়ে সেনাকে লক্ষ্য করে গুলি চলাতে শুরু করে জঙ্গিরা। পালটা জবাব দেয় সেনা। দু’পক্ষের গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয় সুলেমান শাহ ওরফে মুসার। অন্য কোনও জঙ্গির মৃত্যুর খবর মেলেনি।
এই মুসার পরিচয় খোঁজ করতে গিয়ে উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২৩ বছর ধরে পাক সেনায় যুক্ত ছিল মুসা। স্পেশাল সিকিয়োরিটি গ্রুপের সদস্য হিসাবে ২০০৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশারফের নিরাপত্তার দায়িত্বেও ছিল মুসা। বালোচ বিদ্রোহী দমন, পাক তালিবান দমন থেকে শুরু করে একাধিক কঠিন মিশনে পাক সেনার হয়ে কাজ করেছে। এমনকী রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীর হয়েও সুদানে থেকেছে মুসা।২০২৩ সালে পাক সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেয় মুসা। তারপরেই কাশ্মীর সীমান্ত থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ করে।
সামরিক প্রশিক্ষণ থাকার দরুণ কাশ্মীরের প্রতিকূল আবহাওয়া সামলেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা ছিল তার। এতসব দক্ষতার ফলে অন্যান্য জঙ্গিদের থেকে উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায় মুসা। খুব কম সময়ের মধ্যেই শীর্ষ কমান্ডার হয়ে ওঠে। বায়ুসেনার কনভয়ে হামলা থেকে গুলমার্গ-ডেরা কি গলিতে আক্রমণ, একাধিক হামলার সঙ্গে জড়িয়ে তার নাম। দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় গোয়েন্দাদের নজর ছিল মুসার উপর। তার পাক নাগরিকত্বের প্রমাণও রয়েছে। নাগরিকত্ব রেজিস্ট্রেশনের বৈধ কার্ড রয়েছে তার। উল্লেখ্য, একাধিক নাশকতার পরেই জঙ্গিদের সঙ্গে পাক সেনার যোগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মুসার ঘটনায় সেই অভিযোগে সিলমোহর পড়ল কি?
সর্বশেষ খবর
