উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ হলিউডের মেগাস্টার লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও মানেই পর্দায় আভিজাত্য। কিন্তু বাস্তব জীবনে তাঁর বড় হয়ে ওঠার গল্পটি তথাকথিত গ্ল্যামারের চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় এবং কিছুটা ‘অপ্রচলিত’। সম্প্রতি ‘টাইম’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডিক্যাপ্রিও তাঁর ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন হলিউড’ ছবির শ্যুটিং চলাকালীন একটি মজার ঘটনা শেয়ার করেছেন, যা তাঁর পরিবারের শিকড়কে নতুন করে সামনে এনেছে।
“ওরা সিনেমার অতিরিক্ত শিল্পী (Extras) নয়, ওরাই আমার পরিবার”
‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন হলিউড’ ছবির শ্যুটিং চলছিল। সেই সময় ডিক্যাপ্রিও তাঁর সহ-অভিনেতা ব্র্যাড পিটকে ইশারায় দেখিয়ে বলেন যে, দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ওই দুই ব্যক্তিই তাঁর বাবা এবং সৎ মা।
ডিক্যাপ্রিও হাসতে হাসতে বলেন, “আমি ব্র্যাডকে বললাম— ওই দেখো আমার বাবা আর ওই আমার সৎ মা। ব্র্যাড বিশ্বাসই করতে চায়নি! ও ভাবছিল তারা বোধহয় এই ছবির সেট অনুযায়ী সাজানো কোনো অতিরিক্ত শিল্পী (Further)। আমি ওকে বুঝিয়ে বললাম, না, ওরা আসলেও এমন পোশাকেই রোজ চলাফেরা করে। আমার সৎ মা একজন শিখ এবং বাবা সত্তরের দশকের সান ফ্রান্সিসকো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের হিপ্পি কাউন্টার-কালচার আন্দোলনের সাথে যুক্ত।”
অপ্রচলিত শৈশব ও অভিনয়ের শুরু
ডিক্যাপ্রিও জানান, তাঁর বেড়ে ওঠা ছিল সাধারণের চেয়ে আলাদা। তাঁর বাবা জর্জ ডিক্যাপ্রিও লস অ্যাঞ্জেলেসের আন্ডারগ্রাউন্ড আর্ট মুভমেন্টের অংশ ছিলেন। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের এই শিল্পী বন্ধুদের নকল করতে করতেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয় লিওনার্দোর।
তবে শুরুর পথটা মসৃণ ছিল না। দুরন্তপনার কারণে ছোটদের শো ‘রম্পার রুম’ (Romper Room) থেকে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। একে নিজের ক্যারিয়ারের এক ‘অশুভ সূচনা’ বলে মজা করে বর্ণনা করেছেন এই অস্কারজয়ী অভিনেতা। পরবর্তীতে তাঁর সৎ ভাইকে একটি বিজ্ঞাপনে অভিনয় করতে দেখে জেদ চেপে যায় ডিক্যাপ্রিও-র।
তারকা হওয়ার স্বপ্ন নয়, ছিল কাজ পাওয়ার তাগিদ
সাক্ষাৎকারে ডিক্যাপ্রিও একটি চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন। ১২ বছর বয়সেই তিনি নিজের জন্য এজেন্ট ঠিক করেছিলেন। তিনি বলেন, “আমিই আমার বাবা-মাকে বলতাম আমাকে অডিশনে নিয়ে যাওয়ার জন্য। সিনেমার তারকা হওয়ার চেয়েও আমার বেশি চিন্তা ছিল প্রথাগত স্কুল জীবনের পর নিজের জন্য একটা জীবিকার পথ খুঁজে নেওয়া।”
লস অ্যাঞ্জেলেসের সরকারি স্কুল তাঁর কাছে ভীষণ একঘেয়ে লাগত। সেই একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতেই তিনি পেশাদার অভিনয়ের দুনিয়ায় দ্রুত নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা শুরু করেন। আজকের এই বিশ্বসেরা অভিনেতার পেছনে যে এক জেদি কিশোর এবং এক বৈচিত্র্যময় পরিবারের অবদান ছিল, ডিক্যাপ্রিওর এই স্মৃতিচারণ তারই প্রমাণ।
