লালবাগ: বিয়ের পর কোনওভাবেই নববধূর পড়াশোনা করা চলবে না। বিয়ের আগেই কনের পরিবারকে জানিয়ে দিয়েছিল পাত্রপক্ষ। কিন্তু পাত্রপক্ষের এই ইচ্ছেতে আপত্তি ছিল কনের। এই আপত্তির কথা তিনি জানিয়েছিলেন বৌদিকে। বৌদিও কথায় কথায় বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছিল ননদের হবু স্বামীকে। স্বভাবতই বিয়ে ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম। এতে শ্বশুরবাড়ির রোষানলে পড়তে হল কনের বৌদিকে। ননদের হবু জামাইকে জানানোর অপরাধে বলি হতে হল গৃহবধূকেই। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদের লালবাগ মহকুমা এলাকায়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে মৃতের স্বামী সাগর শেখকে।
মৃত ওই গৃহবধূর নাম তাজমিরা খাতুন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লালবাগের সাগর শেখের সঙ্গে বিয়ে হয় তাজমিরা খাতুনের। সম্প্রতি তাজমিরার ননদের বিয়ে ঠিক হয়। পাত্র বর্তমানে দেশের বাইরে থাকেন। যদিও হবু শ্বশুরবাড়ির আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বিয়ের পর ননদ ভবিষ্যতে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করে তার বৌদি তাজমিরার কাছে। এদিকে সেই কথা পাত্রকে তাজমিরা ফোন করলে কথায় কথায় জানায়। এতেই তাজমিরার পরিবারে শুরু হয় অশান্তি। কেননা ওই হবু বরের ফরমান না মানার ফলে ননদের বিয়ে ভেস্তে যেতে পারে। এতেই গোটা পরিবার ক্ষোভে ফুঁসতে থাকে ওই গৃহবধূর উপর। অভিযোগ সেই অপরাধেই তাজমিরার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তথ্য প্রমাণ লোপাট করতে দেহটিকে সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খবর পেয়ে লালবাগ থানার পুলিশ দেহটিকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজে। তদন্ত শুরু হয়েছে। খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মৃতার স্বামী সাগর শেখকে।
