Kumarganj | বিদ্যুতের বিল মেটাতে জমি বিক্রি! আদিবাসী দম্পতির ‘অশ্রু’তে ফিরল আলো, কাঠগড়ায় কুমারগঞ্জ বিদ্যুৎ দপ্তর

Kumarganj | বিদ্যুতের বিল মেটাতে জমি বিক্রি! আদিবাসী দম্পতির ‘অশ্রু’তে ফিরল আলো, কাঠগড়ায় কুমারগঞ্জ বিদ্যুৎ দপ্তর

শিক্ষা
Spread the love


কুমারগঞ্জ: ঘরে জ্বলত স্রেফ দুটি বাল্ব আর একটি পুরোনো টিভি। অথচ পাঁচ বছরের বকেয়া বিল এল এক লক্ষ টাকারও বেশি! সেই পাহাড়প্রমাণ বিল মেটাতে শেষ সম্বল জমিটুকু বিক্রি করতে বাধ্য হলেন কুমারগঞ্জের (Kumarganj) ধাদলপাড়া এলাকার এক দরিদ্র আদিবাসী দম্পতি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে। প্রশ্ন উঠছে বিদ্যুৎ দপ্তরের বিল (Electrical energy Invoice Dispute) নির্ধারণ পদ্ধতি এবং অমানবিক মানসিকতা নিয়ে।

কুমারগঞ্জ ব্লকের ধাদলপাড়া বড়িপুকুর এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ বিশান হেমরম ও তাঁর স্ত্রী সীতা বাস্কে। ইন্দিরা আবাস যোজনায় পাওয়া নুন-পান্তার সংসারে শীতের রাতেও মেঝেতে চাদর পেতে দিন কাটে তাঁদের। প্রায় এক বছর আগে তাঁদের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় দপ্তর। অভিযোগ, মিটার গোলমালের অজুহাতে দীর্ঘদিন দপ্তর থেকে কোনো বিল দেওয়া হয়নি। অথচ হঠাৎ জানানো হয়, পাঁচ বছরের বকেয়া বিল বাবদ ৭৩ হাজার টাকা এবং সুদ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট ১ লক্ষ ৭-৮ হাজার টাকা জমা দিতে হবে।

বিদ্যুৎ দপ্তরের অনড় মনোভাব দেখে দিশেহারা বৃদ্ধ দম্পতি শেষ পর্যন্ত নিজেদের ৯ শতক জমি বিক্রি করেন এবং বাকি কিছু জমি লিজ দেন। মঙ্গলবার ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা নিয়ে কুমারগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসে ছোটেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, দপ্তর থেকে ১ লক্ষ ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। যদিও হাতে পাওয়া রসিদগুলি মেলালে দেখা যাচ্ছে টাকার অঙ্ক ৯৮,৩৪০ টাকা। বাকি প্রায় ৫ হাজার টাকা কোথায় গেল, তা নিয়ে কোনো সদুত্তর মেলেনি। টাকা জমার পরই এদিন বিকেলে বাড়িতে ফিরেছে বিদ্যুৎ সংযোগ।

এই ঘটনাকে ‘অমানবিক’ বলে কটাক্ষ করেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। এলাকার মানুষের প্রশ্ন, একটি বিপিএল পরিবারের ঘরে মাত্র দুটি বাল্ব জ্বালানোর জন্য মাসে গড়ে ১৬০০ টাকা বিল কীভাবে আসতে পারে? কেনই বা পাঁচ বছর ধরে দপ্তর কোনো বিল পাঠায়নি?

কুমারগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসের স্টেশন ম্যানেজার নাজমুল হক ছুটিতে থাকায় ফোনে জানান, অফিসে ফিরে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। জেলার অন্য এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক শুভময় সরকারও তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে জমি হারিয়ে আলো পেলেও, বৃদ্ধ দম্পতির চোখে এখন শুধু সর্বস্বান্ত হওয়ার আতঙ্ক।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *