বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, কুমারগঞ্জ: ভোটার তালিকা সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার হিয়ারিং চলাকালীন নথিপত্র জমার রিসিভ কপি না দেওয়ার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ দিনাজপুরের (Dakshin Dinajpur) কুমারগঞ্জ ব্লক অফিস চত্বর। শনিবার এই বিক্ষোভের জেরে প্রায় দেড় ঘণ্টা থমকে যায় সরকারি হিয়ারিংয়ের কাজ।
এদিন কুমারগঞ্জ ব্লকের দিওর, জাখিরপুর ও সাফানগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের হিয়ারিং চলছিল। উপস্থিত সাধারণ মানুষের অভিযোগ, হিয়ারিং শেষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা নেওয়া হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত স্বীকৃতি বা ‘রিসিভ কপি’ দেওয়া হচ্ছিল না। কোন কোন কাগজ জমা রাখা হলো, তার প্রমাণ না থাকায় ভবিষ্যতে হয়রানির আশঙ্কা করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন আবেদনকারীরা। পরিস্থিতি জটিল রূপ নিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) একটি প্রতিনিধিদল। বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডল এবং ব্লক সভাপতি গণেশ দাসের নেতৃত্বে ২০ জনের একটি দল বিডিও শ্রীবাস বিশ্বাসের কাছে ডেপুটেশন প্রদান করেন। প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন জেলা সভাপতি উজ্জ্বল বসাক, নিখিল সিংহ রায়, অভিষেক গুহ সহ অন্যান্যরা।
ব্লক সভাপতি গণেশ দাসের অভিযোগ, “দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের প্রশাসনিক গাফিলতি চলছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু মানুষদের বেশি হয়রানি করা হচ্ছে। ডকুমেন্টের রিসিভ দেওয়া বাধ্যতামূলক, কিন্তু তা না দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলা হচ্ছে।”
বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে কুমারগঞ্জের বিডিও শ্রীবাস বিশ্বাস জানান, সাধারণ মানুষের এই দাবির বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। বিডিও-র আশ্বাসের পর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুনরায় হিয়ারিং শুরু হয়।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হিয়ারিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় কেন এই ধরনের প্রশাসনিক ত্রুটি থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
