Kumarganj | এসআইআর আতঙ্কে আত্মহত্যা! তীব্র রাজনৈতিক তর্জা কুমারগঞ্জে

Kumarganj | এসআইআর আতঙ্কে আত্মহত্যা! তীব্র রাজনৈতিক তর্জা কুমারগঞ্জে

শিক্ষা
Spread the love


কুমারগঞ্জ: এসআইআর (SIR) আতঙ্কে আত্মহত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ দিনাজপুরের (Dakshin Dinajpur) কুমারগঞ্জে। মৃতের নাম ওছমান মন্ডল (৬৫), বাড়ি কুমারগঞ্জ থানার ডাঙ্গারহাট আগাছা এলাকায়। পেশায় কৃষক ওছমানবাবু ছিলেন এক শান্ত, নিরিবিলি মানুষ। তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন, স্ত্রীকে নিয়ে চলছিল তাঁর ছোট্ট সংসার। কিন্তু এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই নেমে আসে অশান্তি। ভোটার কার্ডে তাঁর নাম ‘ওছমান মন্ডল’, অথচ ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় (Voter Listing) ‘ওছমান মোল্লা’ লেখা থাকায় দিনদিন ভয় ও অস্থিরতা বাড়তে থাকে তাঁর মধ্যে।

পরিবারের দাবি, এই নামের অমিলই তাঁর আত্মহত্যার মূল কারণ। গত কয়েকদিন ধরে তিনি পঞ্চায়েত অফিস, এলাকার পার্টি নেতৃত্ব ও পরিচিতদের কাছে গিয়ে সমাধানের পথ খুঁজছিলেন। কিন্তু সবাই জানিয়ে দেন, এখন এই মুহূর্তে সংশোধন সম্ভব নয়। তৃণমূল নেতৃত্ব (TMC) তাঁকে আশ্বস্ত করলেও আতঙ্ক কাটেনি। সোমবার গভীর রাতে নিজের ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন তিনি। মঙ্গলবার সকালে ঘটনা জানাজানি হতেই শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য বিপ্লব সরকার জানান, ‘ওছমান দা গত দশ-বারো দিনে বহুবার আমার কাছে এসেছেন। আমি বলেছিলাম, চিন্তা নেই, ফর্ম ফিলাপ করে দেব। কিন্তু উনি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। কাল রাতে উনি দড়ি দেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’ স্থানীয়দের কথায়, ডাঙ্গারহাট বাজারেও তিনি প্রায়ই আতঙ্কের কথা বলতেন ‘নাম ভুল থাকলে যদি ওরা নাম কেটে দেয়!’ এই আশঙ্কাই গ্রাস করেছিল তাঁকে।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ‘এসআইআর আতঙ্কের মর্মান্তিক ফল’ বলে দাবি করা হয়েছে। জেলা নেতৃত্বের অভিযোগ, কেন্দ্রের নীতিই সাধারণ মানুষকে মানসিক চাপে ফেলছে। তৃণমূলের জেলা নেতা নিখিল সিংহ রায় বলেন, ‘ব্যক্তিটি এসআইআর আতঙ্কেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন।’ তবে বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপির (BJP) জেলা নেতা রজত ঘোষ জানিয়েছেন, ‘আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত প্রয়োজন, রাজনৈতিক রং চড়ানো ঠিক নয়। কারণ তার এক দিদি নিজেই স্বীকার করেছেন ঐ ব্যক্তি কয়েক বছর ধরে মানসিক অসুখে ভুগছিলেন।এইরকম মৃত্যু নিয়ে তৃণমূল রাজনীতি করছে!’

কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। ঘটনার তদন্তও শুরু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে রাজনৈতিক তরজা তীব্র আকার নিয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন একজন শান্ত কৃষকের জীবন কি সত্যিই প্রশাসনিক আতঙ্কেই শেষ হয়ে গেল?



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *