রায়গঞ্জ: বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনে ডাক পেলেন না রায়গঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক তথা বিশিষ্ট শিল্পপতি কৃষ্ণ কল্যাণী। বাণিজ্য সম্মেলনের আমন্ত্রণ না পাওয়ায় দলের অন্দরে জল্পনা ছড়িয়েছে। আমন্ত্রণ না পাওয়ায় হতাশ বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের একটি জেলা হিসেবে উত্তর দিনাজপুরের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত ছিল।
বুধবার কলকাতায় শুরু হয়েছে অষ্টম বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন। এই সম্মেলনে চাঁদের হাট বসেছে নিউটাউনে। মুকেশ আম্বানি থেকে শুরু করে দেশ বিদেশের তাবড়তাবড় শিল্পপতি হাজির হয়েছেন বাণিজ্য সম্মলনে। এই সম্মেলনে রাজ্যের প্রচুরসংখ্যক বিধায়ক মন্ত্রী আমন্ত্রিত থাকলেও ডাক পাননি রায়গঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক তথা বিশিষ্ট শিল্পপতি কৃষ্ণ কল্যাণী। অতীতে বাণিজ্য সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি আমন্ত্রণ পথ পেলেও এবছর তাঁকে ডাকা হয়নি। অথচ জেলার অন্যান্য শিল্পপতিদের আমন্ত্রণপত্র (সাধারণ কার্ড) দেওয়া হয়েছে। বিধায়ক হওয়ার আগেও তিনি বাণিজ্য সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণপত্র পেতেন। আজ মুখ্যমন্ত্রী বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তাই আমন্ত্রণ না পাওয়ার জন্য তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন বিধায়ক।
বুধবার সকালে এ ব্যাপারে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে কৃষ্ণ কল্যাণী লিখেছেন, “উত্তর দিনাজপুরের জন্য এটি সত্যিই একটি বড় ধাক্কা যে বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট ২০২৫-এর জন্য একটি আমন্ত্রণপত্রও ইস্যু করা হয়নি”। বিধায়ক বলেন, “এই বিশ্ববাণিজ্য সম্নেলনে ৪০ টি দেশের শিল্পপতিরা থাকবেন। এই সম্মেলনে উত্তরবঙ্গের একটি জেলা হিসেবে উত্তর দিনাজপুরের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত ছিল। এই জেলা তথা উত্তরবঙ্গে আরও বিনিয়োগ চাই। উন্নতি চাই। কর্মসংস্থান চাই।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতি বছর এই জেলায় ব্লু, সিলভার ও গোল্ড কার্ড আসে। জেলা থেকে ডিস্ট্রিবিউট হয়। কিন্তু এবার কার্ড আসেনি। এটা দূর্ভাগ্যের বিষয়। আমাদের কৃষি ভিত্তিক এরিয়া। বিশ্বের শিল্পপতিদের সঙ্গে আলোচনা হলে নতুন নতুন শিল্প হতো। সেটা থেকে বঞ্চিত হলাম। প্রতি বছর অংশ নিয়েছি। কেন আমরা বঞ্চিত হলাম বুঝতে পারছি না। মুখ্যমন্ত্রী বিনিয়োগ চান, কিন্তু এক্ষেত্রে কেন এমন হল বুঝতে পারছি না। উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্বের কথা মাথায় রাখা উচিত ছিল।”
অন্যদিকে, পশ্চিম দিনাজপুর চেম্বার অফ কমার্সের সাধারণ সম্পাদক শংকর কুন্ডু বলেন, “আমরা সাধারণ আমন্ত্রণপত্র পেয়েছি। আগামীকাল অংশ নেব। বিধায়ক যে মাপের ব্যবসা করেন তাতে তাকে গোল্ড কার্ড দেওয়া উচিত ছিল।”
