শুভদীপ শর্মা, ক্রান্তি: চারটি সন্তানের পর ফের প্রসব। অভিযোগ, সদ্যোজাতকে ‘খুন’ করে মাটিতে পুঁতে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন মা। প্রতিবেশীরা দেখে ফেলায় অভিযুক্ত মা পলাতক। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ক্রান্তি ব্লকের (Kranti) রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর মাঝগ্রাম খালধুরা এলাকায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ক্রান্তি ফাঁড়ির পুলিশ।
খালধুরা এলাকার দম্পতি রেজিনা বেগম ও জিয়ারুল হক। তাঁদের একটি ছেলে ও তিনটি মেয়ে রয়েছে। তার মধ্যে এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে বছর কয়েক হল। পেশায় সবজি বিক্রেতা জিয়ারুল প্রতিদিন সকালে সবজির ব্যবসার কাজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস কয়েক ধরেই ফের গর্ভবতী ছিলেন রেজিনা। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও কাজে বেরিয়ে যান জিয়ারুল। সকাল আটটা নাগাদ নিজের বাড়িতেই পুত্রসন্তান প্রসব করেন রেজিনা। অভিযোগ, এরপরই রেজিনা বাড়ির পাশের মাঠে গর্ত খুঁড়ছিলেন কোদাল দিয়ে। নিজের সদ্যোজাত সন্তানকে সেই গর্তে মাটি চাপা দিতে গেলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। তাঁরা হইচই শুরু করতেই মৃত সন্তানকে বাড়ির বারান্দায় কাপড় চাপা দিয়ে ফেলে রেখে উধাও হয়ে যান রেজিনা। বিষয়টি তখনই প্রকাশ্যে আসে। ভিড় জমে যায় এলাকায়। খবর দেওয়া হয় ক্রান্তি ফাঁড়ির পুলিশকে।
ঘটনার খবর পেয়ে ক্রান্তি ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শিশুটির দেহ উদ্ধার করে খোঁজ শুরু করে মায়ের। তবে এদিন রাত পর্যন্ত রেজিনার খোঁজ মেলেনি। জিয়ারুল হকও বাড়িতে না আসায় তাঁরও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এদিন ঘটনার পর দুপুর তিনটে নাগাদ বাড়িতে ফেরে রেজিনা বেগমের মেজো মেয়ে। মামণি স্থানীয় একটি হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। বাড়িতে পরিস্থিতি দেখে হকচকিয়ে যায় সে। সে জানায়, এদিন সকালে বাবার সঙ্গেই সে স্কুলে রওনা হয়ে গিয়েছিল। তাই কী ঘটেছে, তার জানা নেই।
স্থানীয় দলাবাড়ি সাব-সেন্টারের কমিউনিটি হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট গিরিবালা রায় জানান, মাসকয়েক আগে স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন রেজিনা বেগম গর্ভবতী। খবর পেয়ে তিনি তাঁর বাড়িতে গিয়ে শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষা করতে চাইলেও তাতে রাজি হননি ওই মহিলা। এদিন গোটা বিষয়টি গ্রামবাসীদের মারফত শুনেছেন তিনি।
প্রতিবেশীরাই জানিয়েছেন, বছর দেড়েক আগেও ওই বাড়ি থেকে আরেকটি সদ্যোজাত শিশুর দেহ উদ্ধার হয়েছিল। তখন রেজিনা বলেছিলেন, তিনি মৃত সন্তান প্রসব করেছিলেন। সেই সন্তানকেও তিনি মেরে ফেলেছিলেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে এই ঘটনার পর।
স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মিন্টু রায় বলেন, ‘এমন ঘটনা কিছুতেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ এদিন খবর পাওয়ার পর স্থানীয় ক্রান্তি ফাঁড়ির ওসি কেটি লেপচার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির দেহ উদ্ধার করে। ওসি জানান, অভিযুক্ত রেজিনা বেগম পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছে।
