দিনহাটা : ‘যারা রান্নাঘরে আগুন লাগিয়েছে তারা যদি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসে তাহলে ঝাঁটা তুলে আওয়াজ করবেন। বুঝিয়ে দেবেন এলাকায় এসেছেন ভালো কথা, কিন্তু ভোট চাইলে পিঠে ঝাঁটার বাড়ি পড়বে।’ বৃহস্পতিবার এভাবেই নাম না করে বিজেপিকে বিঁধলেন রাজ্যের মন্ত্রী উদয়ন গুহ। তৃণমূলের তরফে এদিন ওকরাবাড়ি হাইস্কুলের মাঠে এসআইআর-এর প্রতিবাদে একটি সভার আয়োজন করা হয়। গিতালদহ-১, গিতালদহ-২ এবং ওকরাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতভিত্তিক এই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়েই এই কথা বলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী। এদিন তিনি বলেন, ‘যে রান্নার গ্যাস আগে ৩৫০-৪০০ টাকা ছিল, এখন সেই গ্যাসের দাম ১১০০ টাকা। বাড়ির রান্নাঘরে আগুন লাগিয়েছে এই কেন্দ্রীয় সরকার। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রের বিজেপির সরকার ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি আবাস যোজনার টাকা দেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছে এই সরকার।’ উদয়ন যোগ করেন, ‘মহিলাদের বলছি যারা আপানাদের রান্নাঘরে আগুন লাগিয়েছে, তারা আপনাদের কাছে ভোট চাইতে এলে আপনাদের প্রধান অস্ত্র ঝাঁটায় শান দেবেন।’
উদয়নের এই মন্তব্যের জেরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তর্জা। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের আগে সন্ত্রাসের আবহ তৈরি করতেই উদয়ন এমন মন্তব্য করেছেন। এই প্রসঙ্গে বিজেপির কোচবিহার জেলা কমিটির সম্পাদক অজয় রায় বলেন, ‘নির্বাচন হওয়ার আগেই উদয়ন জনতার রায় আঁচ করতে পেরেছেন। সেই কারণেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমরা জেলার প্রতিটা গ্রামে ভোট চাইতে যাব। ভারতীয় জনতা পার্টি সমস্ত মহিলার কাছে ভোট চাইতে যাবে। আশা করি তাঁরা আমাদের আবেদন ফেরাবেন না।’
এদিন মন্ত্রীর সঙ্গে সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সিতাইয়ের বিধায়ক সংগীতা রায় এবং কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। কয়েকদিন আগে জগদীশ বিজেপি নেতাদের গাছে বেঁধে পেটানোর নিদান দিয়েছিলেন। সাংসদের বক্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা হয়েছিল।
উদয়নের মন্তব্য প্রসঙ্গে বিজেপির কোচবিহার জেলা কমিটির সহ সভাপতি বিরাজ বসু বলেন, ‘এটা নতুন কিছু নয়। খবরের শিরোনামে আসার জন্য তিনি মাঝে মাঝেই এই ধরনের কথা বলেন। মানুষ ব্যালটেই সমস্ত জবাব দেবেন।’
সিপিএমের কোচবিহার জেলা কমিটির সদস্য শুভ্রালোক দাস বলেন, ‘এটা ওঁর ব্যক্তিগত মত। আমি এই বিষয়ে কিছু বলব না। কিন্তু সব দলেরই ভোটের প্রচার করার অধিকার আছে।’
