কিশনগঞ্জ: ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় বুনো হাতির পদাঘাতে ফের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। নেপালের জঙ্গল থেকে পথভুলে বা খাবারের খোঁজে কিশনগঞ্জ জেলার বাহাদুরগঞ্জ থানা এলাকায় লোকালয়ে চলে এসে তাণ্ডব চালায় দুটি বুনো হাতি (Kishanganj Elephant Assault)। হাতির হানায় মৃত্যু হয় এক বৃদ্ধের। গুরুতর জখম হয়েছে একটি শিশু। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ভোরে নেপালের জঙ্গল থেকে বেরিয়ে দুটি বুনো হাতি আচমকাই বাহাদুরগঞ্জ থানা এলাকার গাঙ্গি গ্রামে ঢুকে পড়ে। গ্রামে প্রবেশ করে হাতির দলটি প্রায় ১০ থেকে ১২ একর জমির পাকা ধানের ফসল পুরোপুরি তছনছ করে দেয়। আকস্মিক এই বন্যহাতির হানায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ওই সময় হাতির মুখোমুখি পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন স্থানীয় আলতাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ মহম্মদ মৌফিজ আলম এবং দরনিয়া গ্রামের একটি শিশু। গ্রামবাসীরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় বাহাদুরগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁদের দ্রুত উচ্চমানের হাসপাতালে (হায়ার সেন্টার) রেফার করেন। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বৃদ্ধ মৌফিজ আলম। অন্যদিকে, মারাত্মকভাবে আহত শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য কিশনগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই জেলা সদর থেকে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) ১ সিরাজ খুসরু, সংশ্লিষ্ট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং বন দফতরের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ ও প্রশাসন মৃত বৃদ্ধের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশনগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠায়।
বন দফতরের আধিকারিক মুকেশ কুমার জানিয়েছেন, হাতি দুটি মঙ্গলবার রাতেই দীঘলব্যাংক থানা এলাকার ধনতোলা গ্রামে ব্যাপক উৎপাত চালিয়েছিল এবং বুধবার সকালে গাঙ্গি গ্রামে হামলা চালায়। বর্তমানে বন দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ভিড় সরিয়ে ওই বুনো হাতি দুটিকে নিরাপদে ট্র্যাক করে নেপালের জঙ্গলে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের নির্দিষ্ট নিয়ম ও আইন অনুযায়ী নিহত ও আহতদের পরিবারকে যথোপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে।

