উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: “কোনো মায়ের কাঁধে যেন তার সন্তানের লাশ না ওঠে”— প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে এই আর্তনাদই ঝরে পড়ল পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের মা রাখি আগরওয়ালের কলমে। তবে এই আকুতি কোনও করুণা ভিক্ষার নয়, বরং এক সন্তানহারা মায়ের লড়াইয়ের হুঙ্কার। লোহাগড় কেল্লায় (Lohagad Fort) বাগদত্তা ও তার প্রেমিকের হাতে নির্মমভাবে খুন হওয়া ছেলের সুবিচারের দাবিতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ চাইলেন তিনি।
কেতনের মৃত্যুর পর থেকে আগরওয়াল পরিবারে নেমে এসেছে অন্ধকারের কালো ছায়া। প্রাত্যহিক জীবন যেন থমকে গেছে এক লহমায়। ঘরজুড়ে শুধুই শূন্যতা আর হাহাকার। কিন্তু এই ট্র্যাজেডি এখানেই শেষ হয়নি। তরতাজা নাতির এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে পারেননি কেতনের বৃদ্ধ দাদু। শোক সামলাতে না পেরে, কেতনের মৃত্যুর ঠিক ২০ দিনের মাথায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনিও। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত গোটা পরিবার।
প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে রাখি দেবী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি কোনো সহানুভূতির কাঙাল নন, কোনও বিশেষ সুবিধাও চান না। তিনি শুধু চান, আইনি জটিলতার লাল ফিতায় আটকে যেন তাঁর ছেলের ফাইল ধুলো না জমে। অপরাধীরা যেন আইন অনুযায়ী কঠোরতম শাস্তি পায়। প্রতিদিন রাতে ছেলের ছবির দিকে তাকিয়ে মা আজও প্রতিজ্ঞা করেন— এই লড়াই তিনি থামাবেন না। এখন দেখার, এক মায়ের এই কাতর আর্জি দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে কতটা সাড়া জাগায়।

