উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: তেলেঙ্গানার বিতর্কিত কালেশ্বরম সেচ প্রকল্প নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও (কেসিআর) (KCR Monetary Terrorist Allegation) এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি। প্রকল্পের ব্যাপক দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে প্রাক্তন শাসকদল ভারত রাষ্ট্র সমিতিকে (বিআরএস) ‘আর্থিক সন্ত্রাসী’ (Monetary Terrorists) বলে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। এই ইস্যুকে সামনে রেখে আগামীদিনে রাজ্য রাজনীতিতে বড় সংঘাতের ইঙ্গিত মিলছে।
সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে বিআরএস-এর সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে রেবন্ত রেড্ডি (Revanth Reddy) অভিযোগ করেন, কেসিআর সরকার রাজ্যের ঘাড়ে ৮.২১ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, “৩৮,০০০ কোটি টাকা বাজেটের প্রাণহিতা-চেভেলা প্রকল্পকে কালেশ্বরম প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করে ১.৪৭ লক্ষ কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রকল্পের নকশা পরিবর্তনের নামে চরম দুর্নীতি হয়েছে। ঠিকাদারদের ১.০২ লক্ষ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, অথচ কালেশ্বরম প্রকল্পের ব্যারেজগুলো তাঁদের জমানাতেই ভেঙে পড়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন, “যাঁরা এই ধ্বংসলীলা চালিয়েছেন, তাঁরা আসলে আর্থিক সন্ত্রাসী। কে চন্দ্রশেখর রাও, তাঁর পুত্র কেটিআর এবং ভাইপো টি হরিশ রাও—এরা শুধু তেলেঙ্গানাকে লুট করেনি, রাজ্যের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে।” এই পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার দায়সারা কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা বিতর্কের পথ বেছে নিয়েছে। রেবন্ত রেড্ডি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর পুত্রকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজ্য বিধানসভা ও বিধান পরিষদে এই প্রকল্প নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গোদাবরী নদীর ওপর নির্মিত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বহুমুখী সেচ প্রকল্প কালেশ্বরম একসময় বিআরএস সরকারের স্বপ্নের প্রকল্প ছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রকল্পের ব্যারেজগুলোর ক্ষয়ক্ষতি এবং নির্মাণগত ত্রুটির অভিযোগ জনমানসে বড় ইস্যু হয়ে ওঠে। সেই ইস্যুকেই বর্তমানে মূলধন করে বিআরএস-কে কোণঠাসা করতে মরিয়া কংগ্রেস সরকার। বিরোধীদের ক্রমাগত চাপের মুখে বিআরএস অবশ্য কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে প্রকল্পটিকে উপেক্ষা করার পাল্টা অভিযোগ তুলেছিল।
এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে বিআরএস নেতৃত্ব বিধানসভার ফ্লোরে বিতর্কে অংশ নেন কি না। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই দুর্নীতির তদন্ত এবং জবাবদিহি নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে কালেশ্বরম এখন তেলেঙ্গানার রাজনীতির সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

