প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান: বিজেপি (BJP) বাংলায় সরকার গঠনের পর থেকে গর্জে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। তাঁরাই একের পর এক তৃণমূলের (TMC) নানা দুর্নীতির পর্দা ফাঁস করে চলেছেন। একই পথে হেঁটে এবার পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার (Katwa) প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে কমিউনিটি হল নির্মানের টাকা আত্মসাৎ করে নেওয়ার অভিযোগ আনলেন মঙ্গলকোটের পলসোনা এলাকার বাসিন্দারা। শুধু অভিযোগ আনাই নয়, তাঁরা এই দুর্নীতি কাণ্ড নিয়ে কাটোয়ার প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ছায়াসঙ্গী দিগন্ত পাল ও বিশ্বনাথ সাহা সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে কাটোয়া থানায় অভিযোগও দায়ের করেছেন। এই ঘটনা জানাজানি হতেই কাটোয়ার রাজনৈতিক মহলে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গিয়েছে, তৃণমূলের রাজত্বে মঙ্গলকোটের পলসোনা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন ডাকের গাছতলা এলাকায় দুটি কমিউনিটি হল নির্মানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই মতো ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সরকারের তরফে অর্থ বরাদ্দ হয়। কিন্তু ওই জায়গায় বাস্তবে কোনো কমিউনিটি হল নির্মাণ করা হয়নি। বরং সেখানে গ্রামবাসীদের ব্যক্তিগত অনুদান ও চাঁদার অর্থে একটি মন্দির নির্মান হয়েছে। তাহলে কমিউনিটি হল নির্মাণের টাকা কোথায় গেল?
কাটোয়া ৪ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি সূর্যদেব ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, “দুটি অর্থবর্ষে কমিউনিটি হলের জন্য সরকারি টাকা বরাদ্দ হল। অথচ সেখানে কোনো কমিউনিটি হলই নেই। যে মন্দির রয়েছে, তা গ্রামের মানুষের টাকায় নির্মিত। সরকারি অর্থে মন্দির নির্মাণের কোনো নিয়ম নেই। সূর্যদেব ঘোষের অভিযোগ, পুরো প্রকল্পের টাকা কাটোয়ার প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর সাগরেদ দিগন্ত পাল, বিশ্বনাথ সাহা, তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি বীরবল মণ্ডল, পঞ্চায়েতের বর্তমান ও প্রাক্তন প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি সংস্থা মিলে আত্মসাৎ করে নিয়েছে।
সূর্যদেব ঘোষ এও জানান, বিজেপির কাটোয়ার বিধায়ক কৃষ্ণ ঘোষের নির্দেশে তাঁরা প্রতিটি প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা খতিয়ে দেখবেন। দুর্নীতির সঙ্গে যাঁরাই যুক্ত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি প্রশাসনকে জানানো হবে।
অপরদিকে পলসোনা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান সাবিত্রী মণ্ডল শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমকে জানান, কমিউনিটি হল প্রকল্পের টাকা মন্দির নির্মাণ ও পরবর্তীতে আটচালা তৈরির কাজে ব্যয় হয়েছে। তিনি এও দাবি করেন প্রথমে ঠাকুর ঘর তৈরি হয়েছে, পরে সেই ঘর সম্পূর্ণ করার কাজ হয়েছে। সরকারি টাকাতেই এইসব কাজ হয়েছে বলে সাবিত্রী মণ্ডল দাবি করেছেন।
