Katwa | কাটোয়ায় ‘বাস সিন্ডিকেট’ সাম্রাজ্যের পতন! শ্রীঘরে তৃণমূলের শ্রমিক নেতা ‘নারু’

Katwa | কাটোয়ায় ‘বাস সিন্ডিকেট’ সাম্রাজ্যের পতন! শ্রীঘরে তৃণমূলের শ্রমিক নেতা ‘নারু’

শিক্ষা
Spread the love


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বাস মালিক সংগঠনের টাকা তছরুপ,তোলাবাজি ও পারমিট নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের এক নেতা। ধৃতের নাম নারায়ণ চন্দ্র সেন ওরফে নারু সেন (Naru Sen)। শনিবার রাতে পূর্ব বর্ধমানের (Burdwan) কাটোয়া থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাটোয়া (Katwa) পরিবহণ মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ধৃতকে রবিবার কাটোয়া মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাকে ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বেশ কয়েকজন বাস মালিক নারু সেনের বাড়িতে যান। তাঁরা তাঁদের জমা দেওয়া টাকার হিসাব ও টাকা ফেরতের দাবি জানান নারু সেনের কাছে। এই নিয়ে দু পক্ষের মধ্যে বচসা বেধে যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্টেশনবাজার এলাকার বাড়ি থেকে নারু সেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে নারু সেনের বিরুদ্ধে নানা তরফে অভিযোগ জমা পড়লে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা নারু সেনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা যথেষ্টই চমকে দেওয়ার মতন। একাধিক বাস মালিকের অভিযোগ, হাতবদল হওয়া বাসের পারমিটে মালিকের নাম পরিবর্তন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নারু সেন বহু মালিকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু ৩-৪ বছর কেটে গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই কাজ তিনি আজও করে দেননি। টাকা ফেরত চাইতে গেলে বাস মালিকদের অপমান ও হুমকি দেওয়া হত বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের আরও দাবি, কাটোয়া বাসস্ট্যাণ্ড দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি বাস থেকে প্রতিদিন ১৫০ টাকা করে তোলা আদায় করা হত। এর মধ্যে ১৫ টাকা বাস মালিক সমিতির চাঁদা হিসেবে নেওয়া হলেও বাকি ১৩৫ টাকার কোনও হিসাব কখনও দেওয়া হয়নি। বাস মালিক সুমন কুণ্ডুর অভিযোগ, ‘২০০৫ সাল থেকে প্রতি বাস থেকে ১৫ টাকা করে সমিতির চাঁদা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এত বছরে সেই টাকার কোনও হিসাব দেওয়া হয়নি। বাকি ১৩৫ টাকা কীসের জন্য নেওয়া হত, তাও আমরা জানি না।’ অপর বাস মালিক অরূপ পালের দাবি, কোনও বাসকর্মী বা মালিক টাকা দিতে আপত্তি জানালে সংশ্লিষ্ট বাসকে স্ট্যাণ্ডে দাঁড় করিয়ে রাখা হতো। ফলে ব্যবসার ক্ষতির আশঙ্কায় অনেকেই প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি।

বাস মালিকদের একাংশের অভিযোগ, শাসক দলের ঘনিষ্ঠ নেতা হওয়ায় এতদিন নারু সেনের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারেননি। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর এখন তাঁরা সামনে এসে অভিযোগ জানাতে শুরু করেছেন।যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নারু সেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *