উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: কসবার ল’ কলেজে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ৬৫০ পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। এই অভিযোগপত্রে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। চার্জশিটে বলা হয়েছে, মূল অভিযুক্ত মনোজিত মিশ্র নির্যাতিতার একাধিক ভিডিও তৈরি করে তা দিয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করত।
উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন ক্যাম্পাসের ভেতরেই এই ঘটনা ঘটে। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মনোজিত মিশ্র, যিনি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ও অস্থায়ী কর্মী ছিলেন। এই ঘটনায় মনোজিত ছাড়াও দুই অভিযুক্ত ছাত্র জাইব আহমেদ ও প্রমিত মুখার্জি সহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন থেকে নির্যাতিতার একাধিক অশ্লীল ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে, যা ওই রুমের এগজস্ট ফ্যানের (exhaust fan) ছিদ্র দিয়ে গোপনে তোলা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ভিডিওগুলিতে অভিযুক্তদের কণ্ঠস্বরও শোনা যায়, যা ফরেনসিক পরীক্ষার পর তাদের কণ্ঠস্বরের নমুনার সঙ্গে মিলে গিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গিয়েছে অভিযুক্তরা নির্যাতিতাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়াও পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে যে, ঘটনার সময় অভিযুক্তদের মোবাইলের লোকেশন ছিল ঘটনাস্থলেই। মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে এবং মূল অভিযুক্ত মনোজিত মিশ্রের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে ফরেনসিক নমুনার মিল পাওয়া গিয়েছে। চার্জশিটে নিরাপত্তা কর্মী পিনাকি ব্যানার্জিকেও অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ তিনি পুলিশকে খবর না দিয়ে গার্ডরুম তালাবদ্ধ করে রেখেছিলেন।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার আগেও বিভিন্ন অভিযোগে মনোজিত মিশ্রকে আটবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে প্রতিবারই বন্ধুরা তাঁর জামিন করিয়েছিল। এই ঘটনার পর মনোজিতকে কলেজের অস্থায়ী কর্মীর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দুই অভিযুক্ত ছাত্র জাইব ও প্রমিতকেও কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
