পরাগ মজুমদার, বহরমপুর: কান্দি মহকুমা হাসপাতালে (Kandi Hospital) চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে মারধর করা হল নার্সদের। অভিযোগ, হঠাৎ করেই কয়েকজন মহিলা জুনিয়ার নার্সদের শারীরিকভাবে নিগ্রহ করতে শুরু করেন। নার্সরা ভয় পেয়ে ওয়ার্ড ছেড়ে নিজেদের ঘরে গিয়ে আশ্রয় নিলে মহিলারা সেই ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়েন। তারপর তাঁদের সেখান থেকে বের করে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করেন। এর পাশাপাশি ওয়ার্ডে থাকা চিকিৎসার বিভিন্ন নথি এবং খাতাপত্রও তাঁরা ফেলে দেন। হাসপাতালে চলে ভাঙচুরও। এই ঘটনার জেরে রবিবার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে বিকেল পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ঘটনার পর হাসপাতালে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। এই ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নার্সরা। হাসপাতালের এক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, ভয়ংকর এই ঘটনা মনে করলেই তাঁরা ভয়ে কেঁপে উঠছেন।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার মধ্যরাতে। খড়গ্রাম এলাকা থেকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে এক রোগীকে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এ পর্যন্ত সব ঠিক থাকলেও, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা বাড়ে। রোগীর বাড়ির লোকজন চিকিৎসায় দেরি করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে প্রথমে নার্সদের সঙ্গে বচসায় জড়ান। তারপরই ধুন্ধুমার বেধে যায়। অভিযোগ, ২০-২৫ জন হাসপাতালের ভিতরে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে কর্তব্যরত নার্সদের ওপর হামলা চালান। তাঁদের মধ্যে একজন নার্সিং স্টাফের আঘাত গুরুতর। চলে ভাঙচুরও।
এই ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষী ও আধিকারিকরা সেখানে চলে আসেন। তড়িঘড়ি আহতদের চিকিৎসা শুরু করা হয়। এ ব্যাপারে এদিন কািন্দ হাসপাতালের সিস্টার ইনচার্জ শুক্লা সিনহা বলেন, ‘ভয়ানক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কোনও রোগী এলে তাঁর সঙ্গে দলবেঁধে তাঁর আত্মীয় ও পাড়াপড়শিরাও ঢুকে পড়েন। ফলে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়।’
এই ঘটনায় কান্দি হাসপাতালের কার্যনির্বাহী সুপার অভীক দাস বলেন, ‘যেভাবে যথেচ্ছ ভাঙচুর চালানো হয়েছে আর নার্সিং স্টাফদের উপর আক্রমণ করা হয়েছে, তার নিন্দার কোনও ভাষা নেই। ওই ঘটনায় নার্সরা লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। পুলিশ সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।’
