Kanak Durga Niranjan | সম্পন্ন হল কনকদুর্গার বিসর্জন

শিক্ষা
Spread the love


জলপাইগুড়ি:  জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) শতাব্দীপ্রাচীন বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির (Vaikunthapur Rajbari) দুর্গাপূজার (Durga Puja) নিরঞ্জন মানেই এক অন্য আবেগ, যেখানে আনন্দ আর বিষাদের অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিনে এই ঐতিহাসিক রাজবাড়িতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী যেখানে বারোয়ারি পুজোগুলোর বিসর্জন সাধারণত সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে আসার পর সম্পন্ন হয়, বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির ক্ষেত্রে প্রথাটি একদম আলাদা। এখানে দিনের আলোতেই মা কনক দুর্গার (Kanak Durga) নিরঞ্জন সম্পন্ন করার ঐতিহ্য রয়েছে। সেই প্রাচীন প্রথা মেনেই বুধবার সকাল গড়ালে রাজবাড়ির প্রাঙ্গণে উৎসুক মানুষের ঢল নামতে শুরু করে, যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নেয়। এই বিশাল জনস্রোত সামাল দিতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল পুরো রাজবাড়ি ও তার আশেপাশের এলাকা।
বিজয়া দশমীর সকালে দেবীকে ইলিশ-পান্তার ভোগ নিবেদন এবং ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠার পর্ব চুকে যাওয়ার পর মূল আকর্ষণ শুরু হয়। এই পর্বে প্রথমে সোনার দুর্গার প্রতিমাটি সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং মৃন্ময়ী প্রতিমার অঙ্গ থেকে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া সমস্ত সোনার গয়না ও রুপোর অস্ত্র খুলে রাজবাড়ির অন্দরে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর রথের ওপর সপরিবার মা কনক দুর্গাকে স্থাপন করে মন্দির চত্বর থেকে বাইরে নিয়ে আসা হয়। মন্দিরের পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক রাজবাড়ি দিঘি। সেই রথ টেনে দিঘির ঘাট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ পথটুকু পার করতে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া আবেগ ও উচ্ছ্বাসের কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়। প্রতিমা বিদায়ের এই অন্তিম মুহূর্তে ছোট থেকে বড়—সকলের মনেই ঢাকের বাদ্যের ছন্দে এক অন্য উন্মাদনার সৃষ্টি হয়। পড়ন্ত বিকেলের সোনালী আলো মেখে অবশেষে মৃন্ময়ী দেবী দিঘির জলে বিলীন হয়ে যান। প্রতিমা নিরঞ্জনের এই পর্ব শেষ হওয়ার পর শুরু হয় মিষ্টিমুখের পালা এবং উপস্থিত ভক্তদের মাঝে পান্তা ইলিশের ভোগ বিতরণের ঐতিহ্য। ধীরে ধীরে রাজবাড়ির চত্বরের কোলাহল নিস্তব্ধ হয়ে আসে। রাজপরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শনার্থী—সবার মনকেই গ্রাস করে এক গভীর বিষাদের ছায়া। একে অপরকে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সবার মনে নীরবেই একটাই প্রার্থনা উচ্চারিত হতে থাকে, ‘সামনের বছর আবার এসো মা’।

The put up Kanak Durga Niranjan | বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়িতে ইলিশ-পান্তা ভোগের পর রথে চড়ে সম্পন্ন হল কনকদুর্গার বিসর্জন appeared first on Uttarbanga Sambad.



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *