উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিধানসভার সই জাল কাণ্ডের তদন্তে এবার তৃণমূল সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Kalyan Banerjee) জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে সিআইডি (CID)! এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বার কাউন্সিলে চিঠি দিলেন কল্যাণ। একজন আইনজীবী হিসেবে আদালতের এজলাসে সওয়াল করার পরেও কেন তাঁকে সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফোন করছে, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
কল্যাণের দাবি, পার্থ ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তি যিনি নিজেকে সিআইডি-র আধিকারিক বলে দাবি করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোবাইল নম্বরে ফোন করে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি চান। এরপরই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনে চিঠি লিখে অভিযোগ করেন, একজন সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে বিধানসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলাটি তিনি লড়ছেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, মামলাকারী তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে আদালতে সওয়াল করার জন্যই তাঁকে এই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
চিঠিতে কল্যাণ লিখেছেন, “একজন সিনিয়র আইনজীবী এবং বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে আমি বিষয়টি আপনার নজরে আনছি। একজন আইনজীবী যখন কোনো ফৌজদারি মামলার সওয়াল করছেন, তখন কীভাবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে? এটি আইনজীবীর মর্যাদা, সম্মান এবং বিশেষ অধিকারের পরিপন্থী।” তিনি বার অ্যাসোসিয়েশনকে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিধানসভার বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতির বিষয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদনে থাকা বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হওয়ার পর এই মামলার তদন্তভার নেয় সিআইডি। ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। বিরোধী দলনেতার নামে যে চিঠি স্পিকারের কাছে গিয়েছিল, তাতে অভিষেকের সই ছিল বলে অভিযোগ। পরবর্তীকালে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপনের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের জাল বিস্তৃত হয়েছে। একজন আইনজীবী হিসেবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনি লড়াই বনাম তলবের এই দ্বন্দ্ব এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

