Kaliyaganj | প্রতিশ্রুতিই সার, আজও সেই তিমিরে দুই দত্তক গ্রাম

Kaliyaganj | প্রতিশ্রুতিই সার, আজও সেই তিমিরে দুই দত্তক গ্রাম

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


অনির্বাণ চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার স্বপ্ন নিয়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে কলেজের দত্তক নেওয়া দুই গ্রাম। কিন্তু প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার ফারাক আজও প্রবল। পাড়ার একাধিক ছেলেমেয়ে থ্রি কিংবা ফোর পর্যন্ত পড়েই শিক্ষার জগৎ থেকে ছিটকে গিয়েছে। কেউ ইটভাটার শ্রমিক, কেউ বা আবার লোকের বাড়িতে বাসন মেজে জীবিকানির্বাহ করছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা বাজলেই তারা কানে শুনতে পায় স্কুলের ঘণ্টাধ্বনি। তবু কেউ আর স্কুলমুখী হয় না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আজও অন্ধকারে ডুবে রয়েছে কালিয়াগঞ্জ কলেজের দত্তক নেওয়া ভাণ্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের বুড়িপুকুর ও সাধুপাড়া গ্রাম দুটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্লোবালাইজেশনের যুগেও বহু পরিবারে শৌচালয় নেই। ফলে শৌচকর্মের জন্য জঙ্গলই একমাত্র ভরসা। বুড়িপুকুরের বাসিন্দা প্রমবালা রায় কুজুর বলেন, ‘আজ পর্যন্ত সরকারিভাবে শৌচালয় পাইনি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারও পাই না।’

কালিয়াগঞ্জ (Kaliyaganj) কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক শান্ত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘দীর্ঘ এক বছর ধরে কলেজে স্থায়ী অধ্যক্ষ নেই। সেই কারণে দত্তক নেওয়া দুই গ্রামের পরিচর্যা সেভাবে করা যায়নি। অর্থবরাদ্দও বন্ধ। তবে স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে আবার ইতিবাচকভাবে এগোনো সম্ভব।’

২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর বুড়িপুকুর ও সাধুপাড়াকে দত্তক নেয় কালিয়াগঞ্জ কলেজের এনএসএস ইউনিট। ভাণ্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য, তৎকালীন কলেজ অধ্যক্ষ ডঃ পীযূষকুমার দাস, এনএসএসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডঃ বিপুলকুমার মণ্ডল ও সঞ্জীব ঝা’র উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হয় একটি সমঝোতাপত্র। সেখানে এলাকার শিশুদের শিক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে প্রচারের অঙ্গীকার করে এনএসএস ইউনিট। তবে স্থানীয়দের দাবি, ২০২৫ সাল শেষ হতে চলল। এতদিনে মাত্র একবারই এলাকায় দেখা গিয়েছে কলেজের টিমকে।

বুড়িপুকুরের বাসিন্দা অসিত মালপাহাড়ি বলেন, ‘তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছি। এখন ইটভাটায় কাজ করি। দিনে ৩০০ টাকা মজুরি পাই। আজ পর্যন্ত কেউ পড়াশোনায় সাহায্য করেনি।’

কলেজের অধ্যাপক ডঃ বিপুলকুমার মণ্ডলের কথায়, ‘গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে একবারই ২২ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। সেই অর্থ ও কলেজের নিজস্ব ফান্ড মিলিয়ে একবার সামগ্রী বিতরণ করা সম্ভব হয়। সাধুপাড়ায় তেমন পরিষেবা দিতে পারিনি। পরে আর কোনও ফান্ড না পাওয়ায় সেবামূলক কাজও করা যায়নি।’

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সুধীর দেবশর্মা বলেন, ‘এতদিনে মাত্র একবারই টিম এসেছে কলেজ থেকে। তখন নারকেলের ঝাঁটা, টিফিনবাটি, দাঁত মাজার ব্রাশ আর টুথপেস্ট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাচ্চাদের কোনও লেখাপড়ার সামগ্রী দেওয়া হয়নি। অথচ কলেজ কর্তৃপক্ষ গ্রামের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছিল।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *