তমালিকা দে, শিলিগুড়ি: নেই শিক্ষক। নেই পড়ুয়াও। শুধু পড়ে আছে স্কুল ভবন। সর্বসাকুল্যে ১৭ জন শিক্ষক নিয়ে পড়ুয়াশূন্য এমনই কয়েকটি স্কুলের হদিস মিলেছে কালিম্পং (Kalimpong faculties) জেলায়। যার মধ্যে ১২টি প্রাথমিক এবং পাঁচটি জুনিয়ার হাইস্কুল। বন্ধ স্কুলগুলির তালিকা শিক্ষা দপ্তরের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দুলাল সরকার। সূত্রের খবর, স্কুলগুলিতে দীর্ঘসময় ধরে স্থায়ী শিক্ষক না থাকায় ধীরে ধীরে পড়ুয়া কমতে থাকে। স্থায়ী শিক্ষকের অভাবে অভিভাবকরা পড়ুয়াদের অন্য স্কুলে নিয়ে যান। দু’-তিন বছরে পরিস্থিতি এতটাই বেহাল হয়ে পড়ে যে হাতেগোনা পড়ুয়া নিয়ে চলত স্কুলগুলি। তবে বর্তমানে এই স্কুলগুলিতে (Training Disaster) স্বমহিমায় ঝুলছে তালা। তকমা লেগেছে ‘একেবারে বন্ধ’র।
সরকারি স্কুলের হাল ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছে শিক্ষা দপ্তর। সম্প্রতি স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বন্ধ থাকা কম্পোজিট গ্র্যান্টও দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের শিক্ষার হাল ফেরাতে কোন শিক্ষা জেলার কী অবস্থা তার তালিকাও জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে জানতে চেয়েছে শিক্ষা দপ্তর। বিভিন্ন জেলা থেকে ইতিমধ্যে শিক্ষক, পড়ুয়াশূন্য স্কুলের তালিকা পাঠানো হয়েছে শিক্ষা দপ্তরে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে কালিম্পং জেলারও। জেলা শিক্ষা দপ্তর সূত্রের খবর, পাহাড়ি এই জেলায় শিক্ষার অধিকার থেকে কোনও শিশু যাতে বাদ না পড়ে সেজন্য অনেক কম বসতিযুক্ত স্থানে তৈরি করা হয়েছিল সরকারি স্কুল। তবে সেসব স্কুল থাকলে কী হবে, ছিল না প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো। বিশেষ করে ২০১৫ সালের পর থেকে এই সমস্যা আরও বাড়তে থাকে। স্কুলে শিক্ষক না থাকায় সভাসদের স্বেচ্ছাসেবক পরিষেবা দেওয়া শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছিল কয়েকটি স্কুল। কিন্তু সেই শিক্ষকরাও নিয়মিত না আসায় পড়ুয়া সংখ্যা কমতে শুরু করে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে শিক্ষক, পড়ুয়া সংখ্যা শূন্যতে নেমে আসে। এই তালিকায় তোদে জুনিয়ার হাইস্কুল, মাকুম জুনিয়ার হাইস্কুল, কোলেকং জুনিয়ার হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুলের নাম রয়েছে।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দুলাল সরকারের বক্তব্য, ‘জেলার অনেক হাইস্কুলেও শিক্ষকরা অবসর নিলে শিক্ষক-পড়ুয়া অনুপাত কম হয়ে যাবে। সেই রিপোর্টও শিক্ষা দপ্তরের কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও যে স্কুলগুলি বন্ধ হয়ে রয়েছে তার তালিকাও দেওয়া হয়েছে।’
কালিম্পং (Kalimpong) শিক্ষা জেলায় মোট ৬৪টি সরকারি স্কুল রয়েছে। তবে গত কয়েকবছরে বেসরকারি ইংরেজিমাধ্যম স্কুলের দাপটে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে পার্বত্য এলাকার এই সরকারি স্কুলগুলি। প্রাক্তন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল জানান, জেলার কোন স্কুলের পরিস্থিতি কী রয়েছে সেব্যাপারে একটা তালিকা তৈরি করে আগেও শিক্ষা দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও সমস্যা মেটেনি। আশা করছি, নতুন সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে সমাধান করবে।’
যদিও এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন বলেন, ‘স্কুলগুলির বর্তমান পরিস্থিতির রেকর্ড আমরা রাখছি। সার্ভে করার পর কোন স্কুলে কী করব তা ঠিক করা হবে।’

