তমালিকা দে, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের প্রথম রিপলিং হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে পেমলিং। রিপলিংয়ের জন্য এখন অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস প্রিয় মানুষজন ভিড় জমাচ্ছেন কালিম্পংয়ের (Kalimpong) পেমলিং ওয়াটার ফলসে। একটি ঝরনাধারা বা ওয়াটার ফলস কীভাবে একটি জায়গার অর্থনীতিকে বদলে দিতে পারে, তার প্রমাণও রাখছে পাহাড়ি জনপদটি। দিন-দিন ভিড় বাড়তে থাকায় নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)। (GTA) পেমলিং ইকো ট্যুরিজমের সভাপতি লাপকা শেরিং লেপচা বলেন, ‘স্থানীয় পর্যটনকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে এখানে রিপলিং চালুর জন্য আমরা জিটিএ’র কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। জিটিএ’র সহযোগিতায় এখানে রিপলিং শুরু হয়েছে। সপ্তাহে দু’দিন শনি ও রবিবার রিপলিং হচ্ছে। আগামীতে দিনের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।’ জিটিএ’র পর্যটন বিভাগের ফিল্ড অফিসার দাওয়া গ্যালপো শেরপা বলছেন, ‘অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের প্রতি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে। তাই প্ল্যারাগ্লাইডিং, রিভার র্যাফটিং, কায়াকিং, স্নোরকেলিংয়ের মতো অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসগুলিতে নজর দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।’
অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমে এখন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় রিপলিং। এই রিপলিংয়ের একটি স্কুবা ডাইভিং। যা করতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল দেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী জুবিন গর্গের। স্কুবা ডাইভিং দার্জিলিং বা কালিম্পং পাহাড়ে সম্ভব নয়। কিন্তু একটি ওয়াটার ফলসকে কাজে লাগিয়ে কালিম্পংয়ের পেমলিংয়ে শুরু হয়েছে রিপলিং। যথারীতি সেই খবর ছড়িয়ে পড়ায় ভিড় বাড়তে শুরু করেছে এলাকাটিতে। এখানে রিপলিং বলতে ফলসের মধ্যে দিয়ে দড়ি বেয়ে পাহাড়ে ওঠা এবং পাহাড় থেকে নীচে নেমে আসা। ঝুঁকি এড়াতে অবশ্য হেলমেট ও নি গার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাঁরা অংশ নিচ্ছেন, তাঁদের সঙ্গে থাকছেন এইচএমআই সার্টিফায়েড গাইড।
কালিম্পং জেলার পেমলিং গ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য জনপ্রিয় হলেও, সেভাবে পর্যটকদের পা এখানে পড়ত না। ওয়াটার ফলসটিকে কেন্দ্র করে যে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পেমলিং নজর কাড়তে পারে, সেই ভাবনাচিন্তাও করা হয়নি অতীতে। কিন্তু রিপলিংয়ের হাত ধরে কালিম্পং শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের পেমলিং এখন জনপ্রিয় ডেস্টিনেশন। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়তে থাকায় তৈরি হয়েছে একাধিক হোমস্টে। তবে বর্ষার মরশুমে রিপলিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জিটিএ। জিটিএ সূত্রে খবর, বাঞ্জি জাম্পিং ও হট এয়ার বেলুন চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে বিভিন্ন এলাকা দেখা হচ্ছে।
