উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : কালীপুজোর আগে বাজির পাশাপাশি ফানুস বা এয়ার বেলুন নিয়েও কড়াকড়ির কথা জানাল পুলিশ-প্রশাসন। উৎসবের মরশুমে বাড়ির ছাদ থেকে কিংবা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফানুস ওড়ানোর প্রবণতা থাকলেও এবার নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা জানিয়েছেন, অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়া ফানুস বা এয়ার বেলুন ওড়ানোর ঘটনায় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। সেই কারণেই দুর্ঘটনা এড়াতে ফানুস ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ম মানতে হবে।
তবে সাধারণ ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রেও লাইসেন্স প্রয়োজন কি না, সেই লাইসেন্স কোথা থেকে পাওয়া যাবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। ফানুস ব্যবহারে পুলিশের এই নির্দেশ ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে।
কালীপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের বৈঠকের পর নবান্নের সভাঘর থেকে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করা হয়। সেখানে স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ গ্রিন বাজি ব্যবহারের উপর জোর দেন। একই সঙ্গে শব্দবাজি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ এবং বৃদ্ধাশ্রমের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও শব্দবাজি ফাটানো যাবে না। এই এলাকাগুলিকে সাইলেন্ট জোন হিসেবে উল্লেখ করে সেখানে নীরবতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কালীপুজোর আগে বাজির বাজারের উপর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিবের কথায়, “নিজের আনন্দ যেন অন্যের দুঃখের কারণ না হয়।” প্রশাসনের কড়াকড়ির পাশাপাশি মানুষের সচেতনতাকেও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, বাজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সকলের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
কালীপুজোর আগে কন্ট্রোল রুম চালু করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রসচিব। বাজি সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ থাকলে সাধারণ মানুষ সেখানে জানাতে পারবেন। নিষিদ্ধ বাজির বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চালানো হবে। উৎসবের দিনগুলিতেও প্রশাসনের নজরদারি থাকবে এবং পেট্রোলিং চলবে।
সাইলেন্ট জোনগুলিতে সবসময় নীরবতা বজায় রাখতে হবে। সেই নিয়ম কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের নজরদারির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। কালীপুজোর উৎসবের আনন্দ যাতে দুর্ঘটনা, শব্দদূষণ বা অন্যের সমস্যার কারণ না হয়ে ওঠে, সে জন্যই ফানুস ও বাজি ব্যবহারে নিয়ম মানার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

