সমীর দাস, কালচিনি: কালচিনি ব্লকের মধু চা বাগানের একই মাঠে দুটি স্কুল (Kalchini)। একটিতে শিক্ষক সংখ্যা কম, আরেকটিতে শিক্ষক সংখ্যা বেশি। শুক্রবার সেখানে গিয়ে দেখা গেল, যে স্কুলে শিক্ষক কম, সেই স্কুল গমগম করছে। আর যে স্কুলে শিক্ষক বেশি, তার দরজায় তালা ঝুলছে!
বন্ধ চা বাগানের বিরসু লাইনের যে স্কুলে ক্লাস হচ্ছিল, সেই স্কুলের নাম মধু নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়-২। আর যে স্কুলটি এদিন খোলেইনি, তার নাম মধু জুনিয়ার বেসিক ইউনিট-১ স্কুল। সেই স্কুলের ১৬ জন পড়ুয়া এদিন ক্লাস করেছে ‘প্রতিবেশী স্কুল’-এর পড়ুয়াদের সঙ্গে। নিম্ন বুনিয়াদি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয় আচার্য নিজের স্কুলের পড়ুয়া ছাড়াও পাশের স্কুলের পড়ুয়াদেরও পড়িয়েছেন এদিন।
বেসিক ইউনিট স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিলদার আজম রব্বানির যুক্তি, তিনি বিএলও’র দায়িত্ব পেয়েছেন। সেই কাছে ব্যস্ত ছিলেন। সেই স্কুলের আরেক শিক্ষক অরূপ দত্তও একইভাবে এসআইআর নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এদিন স্কুলে আসতে পারেননি। আর স্কুলের তৃতীয় শিক্ষিকা শম্পা মণ্ডল অসুস্থ থাকায় স্কুলে আসেননি। সেই স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, নিম্ন বুনিয়াদি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে এদিন তাঁদের স্কুলের পড়ুয়াদেরও পড়ানোর জন্য আবেদন করেছিলেন।
তবে এভাবে কি এক স্কুলের পড়ুয়াদের আরেকটা স্কুল ‘ট্রান্সফার’ করা যায়? এব্যাপারে জানতে চেয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) লক্ষ্মণা গোলেকে ফোন করলেও তিনি ধরেননি। তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান পরিতোষ বর্মন ঘটনার কথা শুনে অবাক। বললেন, ‘এমনভাবে স্কুল বন্ধ রাখাটা ঠিক হয়নি। অভিযোগ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে।’ এছাড়াও তিনি বলেন, ‘বিএলওর কাজে কোনও শিক্ষক ব্যস্ত থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।’
বেসিক ইউনিট স্কুল বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চতুর্থ শ্রেণির এক পড়ুয়ার বাবা লাইতুস খাড়িয়া। বাগানের লোদো লাইনের বাসিন্দা ওই শ্রমিক বলেন, ‘এর আগেও বিনা কারণে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছিল। কয়েক দিন তো মিড-ডে মিলের খাবার দিয়ে স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা অভিযোগ করলে স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে বলা হয়েছে বাচ্চাদের প্রাইভেট টিউশনিতে ভর্তি করতে।’ এবার সেখানকার অভিভাবকদের প্রশ্ন, বাইরে কাজ করে কোনওমতে সংসার চলে, তার মধ্যে প্রাইভেট কোচিংয়ের খরচ জুটবে কীভাবে?
যদিও মাঝে মাঝে স্কুল বন্ধ রাখার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিলদার রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি প্রায় এক বছর আগে স্কুলের দায়িত্ব নিয়েছি। আগে স্কুলে ১৬ জন পড়ুয়া ছিল। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪। আমরা তো অভিভাবকদের বাড়িতে গিয়ে বলি ছেলেমেয়েদের নিয়মিত স্কুলে পাঠাতে।’
নিম্ন বুনিয়াদি স্কুলটি অবশ্য নিয়মিত খোলা থাকে বলে দাবি অভিভাবক মহলের। তবে গত কয়েক বছরে পড়ুয়ার সংখ্যা কমেছে ওই স্কুলে। বাগানের স্টাফ কোয়ার্টার লাইনের বাসিন্দা তথা ওই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র প্রকাশ লোহার জানালেন, আগে স্কুলে প্রায় ২০০ জন পড়ুয়া ছিল। এখন কমে হয়েছে ৩২ জন। সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয় আচার্য জানালেন, আরও একজন শিক্ষক থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। স্কুলে আসতে পারেন না। তাই স্কুল সামলানোর পাশাপাশি অফিশিয়াল সব কাজ তাঁকেই সামলাতে হয়। স্কুলে শ্রেণিকক্ষ থাকলেও শিক্ষক কম থাকায় একটি স্কুলঘরেই সব পড়ুয়াকে বসাতে হয়।
