উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ সংসদের অন্দরে নারী সাংসদদের প্রতি ‘আপত্তিকর ও অসম্মানজনক’ মন্তব্যের অভিযোগে শ্রীরামপুরের তৃণমূল (TMC) সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানালেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে লেখা চিঠিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নারী-বিদ্বেষ এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ তুলে তাঁকে বহিষ্কারের আরজি জানিয়েছেন কাকলি।
কাকলি ঘোষ দস্তিদার অভিযোগ করেছেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল তাঁকে নয়, সংসদের অন্যান্য মহিলা সাংসদদের প্রতিও বারবার নারী-বিদ্বেষী ও অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করেছেন। কাকলির কথায়, রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি ব্যক্তিগত স্তরে হেনস্থা করছেন। তাঁর এই অভব্য আচরণের ফলে সংসদের অন্দরে মহিলা সাংসদদের কাজের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
সাংসদ আরও দাবি করেন, কল্যাণের এই কার্যকলাপ লোকসভার ৩৪৯ ধারার পরিপন্থী এবং সংসদের মর্যাদাহানির শামিল। সংবিধানের ১০৫ ধারা বাকস্বাধীনতার অধিকার দিলেও, তা কাউকে হেনস্থা করার লাইসেন্স দেয় না বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। এর আগে গত ২৮ মে-ও তিনি একই বিষয়ে স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন।
কাকলির এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমি সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদে ছিলাম। মাঝখানে কয়েক মাস ওই দায়িত্বে ছিলাম না। ওর আবার কিসের এত কথা?’’ পাশাপাশি, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দিকে আঙুল তুলে কল্যাণ নারদা কাণ্ড এবং রাজারহাটের ‘সিন্ডিকেট’ তত্ত্ব নিয়ে ব্যক্তিগত বিদ্রূপও করেছেন।
উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের অগস্টে মুখ্যসচেতক পদ থেকে কল্যাণের হঠাৎ ইস্তফা এবং পুনরায় দায়িত্বপ্রাপ্তি ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘ দিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল। মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে প্রকাশ্যে বাদানুবাদ এবং পরবর্তীতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ ২০ জন সাংসদের দলবদল ও নতুন দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে যোগদানের বিষয়টি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটের চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে এই সাংসদীয় তরজা এবং দলবদলের রাজনীতি এখন দিল্লির অলিন্দে আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
