উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: গ্রেপ্তার বা কেন্দ্রীয় এজেন্সির হেপাজতে গেলেই কি পদ হারাতে হবে দেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের? মোদী সরকারের আনা বিতর্কিত বিলের সংশোধন ঘটিয়ে এবার এক মধ্যপন্থা অবলম্বন করল যৌথ সংসদীয় কমিটি (Joint Parliamentary Committee report)। ৩০ দিন বা তার বেশি সময় হেফাজতে থাকলে সরাসরি ‘অপসারণ’ করার যে প্রস্তাব কেন্দ্র এনেছিল, তার পরিবর্তে এবার সংশ্লিষ্ট নেতাকে সরকারি চাকুরিজীবীদের মতো ‘সাসপেন্ড’ করার পক্ষে সায় দিল কমিটি।
বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গির (Aparajita Sarangi) নেতৃত্বাধীন যৌথ সংসদীয় কমিটি জানিয়েছে, ‘অপসারণ’ বা পদচ্যুত করার অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির গায়ে চূড়ান্ত কলঙ্কের দাগ লেগে যাওয়া। আদালতের চূড়ান্ত রায় আসার আগেই কাউকে অপরাধী দেগে দেওয়া সংবিধানসম্মত নয়। তাই অপসারণের বদলে ‘সাসপেনশন’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত। এর ফলে অভিযুক্ত মন্ত্রী যদি পরে আদালত থেকে সসম্মানে খালাস পান, তবে তাঁর সাসপেনশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে উঠে যাবে এবং তিনি সগৌরবে নিজের পদে ফিরতে পারবেন।
২০২৫ সালের বাদল অধিবেশনের শেষলগ্নে (monsoon session 2025) মোদী সরকার একটি সংবিধান সংশোধনী বিল এনেছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, ৫ বছর বা তার বেশি মেয়াদের কারাদণ্ড হতে পারে এমন গুরুতর অপরাধে যুক্ত কোনো মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী টানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকলে তাঁর পদ চলে যাবে। বিরোধীরা সরব হয়ে দাবি করেছিল, এই বিলের মাধ্যমে ইডি-সিবিআই-এর মতো এজেন্সিকে ব্যবহার করে (CBI ED misuse) বিরোধী শাসিত রাজ্য সরকারগুলিকে ফেলে দেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে কেন্দ্র। তীব্র প্রতিবাদের মুখে বিলটি স্ক্রুটিনির জন্য জেপিসি-তে পাঠানো হয়।
বর্তমান রিপোর্ট অনুযায়ী, কোন কোন অপরাধকে ‘গুরুতর’ বলা হবে, তার একটি নির্দিষ্ট তালিকা তৈরির সুপারিশ করেছে কমিটি। পাশাপাশি, সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের বিচারপ্রক্রিয়া যাতে বছরের পর বছর ঝুলে না থাকে, তার জন্য বিশেষ ‘ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট’ (Quick Monitor Court docket) গঠনের কথাও বলা হয়েছে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলার সন্তোষজনক অগ্রগতি না হয়, তবে সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা যাবে। আগামী সপ্তাহেই এই চূড়ান্ত রিপোর্ট সংসদে পেশ হতে চলেছে, যা দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় আনতে পারে।

