উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত যুদ্ধের মেঘের মধ্যেই বড়সড় ধাক্কা খেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) প্রশাসন। আমেরিকার ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টার (NCTC)-এর ডিরেক্টর জো কেন্ট পদত্যাগ করেছেন (Joe Kent Resignation)। তাঁর অভিযোগ, আমেরিকার জাতীয় স্বার্থে নয়, বরং ইসরায়েল এবং সে দেশের শক্তিশালী লবির চাপেই ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ শুরু করেছে ওয়াশিংটন।
মঙ্গলবার নিজের পদত্যাগপত্রে কেন্ট সাফ জানিয়েছেন, তিনি তাঁর ‘বিবেক’ বিসর্জন দিয়ে এই যুদ্ধের অংশ হতে পারবেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন— তেহরান যেখানে আমেরিকার জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না, সেখানে কেন এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পথে হাঁটল হোয়াইট হাউস? তাঁর মতে, এই যুদ্ধের নেপথ্যে রয়েছে ইসরায়েলি প্রভাব।
২০১৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ট্রাম্পের বিদেশনীতির কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত কেন্ট তাঁর চিঠিতে আক্ষেপ প্রকাশ করে লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট, আপনি এখনও চাইলে ধ্বংসের পথ থেকে ফিরে আসতে পারেন। আপনি কি ভেবে দেখেছেন আমরা কার জন্য এই যুদ্ধ করছি?” সাবেক এই সেনা আধিকারিকের মতে, এই যুদ্ধ আমেরিকাকে চরম বিশৃঙ্খলা ও পতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, কয়েকদিন আগেই ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান হামলা করার আগেই তিনি ‘প্রি-এম্পটিভ’ বা আগাম আক্রমণ চালিয়েছেন। এমনকি তিনি রহস্যজনকভাবে দাবি করেন, “আমেরিকা হামলা না করলে ইসরায়েল আগেই করত। বরং আমিই হয়তো ইসরায়েলের হাত শক্ত করতে বাধ্য করেছি।”
১১ বার যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করা এই প্রাক্তন সিআইএ (CIA) অফিসার জো কেন্ট গত বছর জুলাই মাসে সংকীর্ণ ভোটের ব্যবধানে NCTC-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। ডানপন্থী ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে তাঁর অতীত যোগসূত্র নিয়ে বিতর্ক থাকলেও গোয়েন্দা মহলে তাঁর দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল না। তাঁর এই বিদায় এখন ওয়াশিংটনের অন্দরে যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলল।
