পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: শেষমুহূর্তে স্থগিত হয়ে গেল কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কেএলও চিফ জীবন সিংহ (Jiban Singha) এবং কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিলের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। বুধবার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে কেন্দ্রের তরফে বৈঠক স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়। একেই দিল্লির পরিবর্তে বৈঠক অসমে হবে বলে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত তাও হল না। ফলে অসম ও পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে শান্তি চুক্তি হওয়া নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও অসম থেকে টেলিফোনে জীবন বলেন, ‘শান্তি আলোচনা ধারাবাহিকভাবে চলছে। আমরা আশাবাদী খুব শীঘ্রই বৈঠক ডাকবে কেন্দ্র।’ তবে এদিন বৈঠক না হওয়ায় কোচ, কামতাপুরি ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ সমাজমাধ্যমে বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনায় মুখর হয়েছেন।
গত বছরের ২৯ থেকে ৩১ ডিসেম্বর দিল্লিতে কেন্দ্রের তরফে উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত থাকা উপদেষ্টা একে মিশ্র বৈঠক করেছিলেন। ওই বৈঠকে জীবন সিংহ, কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি তপতী রায় মল্লিক, জীবনের সঙ্গে কেন্দ্রের মধ্যস্থতাকারী অসমের অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল দেবকুমার শইকিয়ারা উপস্থিত ছিলেন। এরপরেই পরবর্তী বৈঠক ২৫ ফেব্রুয়ারি হবে বলে কেন্দ্রের তরফে জীবনদের জানানো হয়েছিল। তবে প্রথমে দিল্লিতে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও, পরবর্তীতে জায়গা পরিবর্তন করে অসমের কথা বলা হয়। বৈঠকে যোগ দিতে মঙ্গলবার রাতে উত্তরবঙ্গ থেকে অসমে পৌঁছান স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিলের সদস্যরা। জানা গিয়েছে, বুধবার প্রথমে দেবকুমার এবং পরবর্তীতে জীবনের সঙ্গে আলোচনা করে বৈঠক স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেবকুমার ফোনে বলেন, ‘প্রথম থেকে শান্তি আলোচনা করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নিযুক্ত উপদেষ্টা একে মিশ্র। কিন্তু তিনি ৩ মার্চ অবসর নিচ্ছেন। তাঁর জায়গায় অজিতকুমার পাল ৫ মার্চ দায়িত্ব নেবেন। তাই বৈঠক স্থগিত রাখা হল বলে কেন্দ্রের প্রতিনিধি জানিয়েছেন।’ বৈঠক স্থগিত নিয়ে তপতী কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। শান্তি আলোচনা চলছে দাবি করলেও, এদিন জীবনের গলায় ছিল না আগের মতো তেজ। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় প্রতিনিধির সঙ্গে অনেক অভ্যন্তরীণ আলোচনা হয়েছে। যা এখন গোপনীয় রাখা হচ্ছে। ফের দ্রুত আলোচনা হবে এই আশা করছি। আমাদের শান্তি আলোচনা এর আগের বৈঠকেই শেষ হয়েছে। এখন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত করতে চাই। আমাদের পৃথক রাজ্য গঠন, ভাষার সংবিধান স্বীকৃতি সহ কোচ কামতাপুরিদের এসটি স্বীকৃতির দাবি থেকে এক পা নড়ছি না।’
তবে বৈঠক স্থগিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কোচ, কামতাপুরিদের অনেকেই সমাজমাধ্যমে হইচই শুরু করে দেন। বিজেপিকে গালমন্দ করা হয়। সামনেই অসম ও পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট। ফলে ভোট ঘোষণার আগে বৈঠক না হলে তার প্রভাব ভোটবাক্সে পড়বে বলেও সমাজমাধ্যমে অনেকে লিখেছেন।
