কুমারগঞ্জ: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের জনকল্যাণ শিবিরে (Janakalyan Shibir) দীর্ঘ লাইনের ছবি নতুন নয়। কিন্তু সেই লাইনই যে কুমারগঞ্জের (Kumarganj) শত শত বেকার তরুণের কাছে আয়ের এক নতুন দরজা খুলে দেবে, তা হয়তো ভাবা যায়নি। কুমারগঞ্জের বরাহার কিষাণ মান্ডি ও হাইস্কুলের মাঠে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরকে কেন্দ্র করে এখন গড়ে উঠেছে এক অস্থায়ী ‘রোজগারের হাট’।
সোমবার থেকে চলা এই শিবির চত্বরে গেট পেরোতেই চোখে পড়ে অভিনব দৃশ্য। চট বিছিয়ে বসে রয়েছেন একঝাঁক তরুণ। তাঁদের সামনে মোবাইল, কলম আর স্তূপাকারে পড়ে থাকা সরকারি প্রকল্পের ফর্ম। বার্ধক্য ভাতা, উজ্জ্বলা গ্যাস, শৌচালয়, আয়ুষ্মান ভারত বা জব কার্ড—যেকোনো প্রকল্পের আবেদনপত্র পূরণের জন্য সাধারণ মানুষ ছুটছেন তাঁদের কাছেই। বার্ধক্য ভাতার ফর্ম পূরণে নেওয়া হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। তবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতো বারো পাতার দীর্ঘ ফর্ম পূরণের জন্য নেওয়া হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। দীর্ঘ সময় ও পরিশ্রম সাপেক্ষ বলেই এই দাম বলে জানালেন তরুণরা।
শিবিরে আসা ২৬ বছরের রুস্তম আলীর মতো বহু তরুণের মুখে এখন হাসির রেখা। রুস্তম জানান, “গত চারদিনে প্রায় তিন হাজার টাকা রোজগার করেছি। পরিশ্রম হলেও এই কটা দিনে আয়ের মুখ দেখছি।” শুধু ফর্ম পূরণই নয়, শিবিরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে জেরক্স, প্রিন্টিং, ঝালমুড়ি ও ফলের দোকানের মতো অস্থায়ী ব্যবসা। কিষাণ মান্ডির গেটের বাইরে কম্পিউটার নিয়ে বসে পড়েছেন বহু তরুণ, যাঁরা মুহূর্তের মধ্যে নথিপত্র প্রিন্ট করে দিচ্ছেন।
জানা গিয়েছে, শিবিরে শৌচালয় প্রকল্পের ফর্মের চাহিদা আকাশচুম্বী। প্রায় ১০ হাজার ফর্ম বিলি হয়েছে, যার সিংহভাগই পূরণ করেছেন এই তরুণরা। অনলাইন ফর্মের আধিক্যের ফলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মের চাহিদা কিছুটা কম হলেও, সব মিলিয়ে জনকল্যাণ শিবির এখন কুমারগঞ্জের বেকারদের কাছে এক ‘অস্থায়ী কর্মসংস্থান’ হয়ে উঠেছে।
সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার এই শিবির আবেদনকারীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেলেও, কুমারগঞ্জের তরুণদের কাছে তা কয়েকদিনের জন্য আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক নেতা বা প্রশাসনের নজরদারির বাইরে থাকা এই ‘রোজগারের হাট’ বুঝিয়ে দিচ্ছে, উপযুক্ত সুযোগ পেলে সরকারি প্রকল্পের ভিড় থেকেও কীভাবে স্বনির্ভরতার পথ খুঁজে নেয় কর্মপ্রার্থী তরুণরা।

