উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : প্রবল বর্ষণে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরে। শনি ও রবিবার টানা বৃষ্টিতে রাজৌরি, পুঞ্চ সহ উপত্যকার একাধিক জেলা কার্যত জলের তলায়। নদীগুলির জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজৌরির নীচু এলাকাগুলি সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের জেরে জম্মু ও কাশ্মীরে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও বহু মানুষ। এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের দাবিতে চলমান আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে তড়িঘড়ি শ্রীনগরে ফিরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা।
আবহাওয়া দপ্তর আগেই জম্মু ও কাশ্মীরে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। সেই সতর্কতা মিলিয়েই শুক্রবার থেকে শুরু হয় প্রবল বর্ষণ। গত দু’দিন ধরে লাগাতার বৃষ্টির ফলে দারহালি, খান্দালি, সুকতোহ এবং জামোলা নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, দারহালি নদীর একটি বাঁধ ভেঙে তীব্র বেগে জল বাসস্ট্যান্ডের পার্কিং লটে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক যানবাহন ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
বন্যা পরিস্থিতির পাশাপাশি পাহাড়ের একাধিক জায়গায় ব্যাপক ভূমিধস শুরু হয়েছে। পুঞ্চ জেলায় আচমকা বাড়ি ভেঙে পড়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, রাজৌরি জেলায় ভারী বৃষ্টির জেরে নামা ধসে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১ জন। দুই জেলা মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৫ জন নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে।
দুর্যোগের খবর পেয়েই স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। প্লাবিত ও বিপজ্জনক এলাকাগুলি থেকে বহু পরিবারকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত ব্যাপক হলেও এখনই তার সঠিক মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। জল নামলে তবেই ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
এদিকে, রাজ্যের এই কঠিন পরিস্থিতিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে দলীয় কর্মসূচি কাটছাঁট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে সেখানে অবস্থানে বসেছিলেন তিনি। উপত্যকার বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ও উদ্ধারকাজে গতি আনতে সেই বিক্ষোভ আন্দোলন আপাতত স্থগিত রেখে দিল্লির বিমান ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

