প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বিধানসভা ভোটের ঠিক মুখে দলবদলু বিজেপি নেতা গৌরসুন্দর মণ্ডলের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেন দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা (Jamalpur BJP Chief Attacked)। ধৃতরা হলেন জামালপুরের বেরুগ্রাম অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি শেখ সাহাবুদ্দিন ওরফে দানি এবং আইএনটিটিইউসি-র ব্লক সভাপতি তাবারক আলি মণ্ডল। এই দু’জন ছাড়াও সাহাবুদ্দিনের গাড়ি চালক শেখ মানিককেও পুলিশ জালে পুরেছে।
আক্রান্ত বিজেপি নেতা গৌরসুন্দর মণ্ডলের অভিযোগ, গত ১১ মে দুপুরে বর্ধমান থেকে ফেরার পথে সারাংপুর এলাকার ফাঁকা রাস্তায় তাঁর পথ আটকান অভিযুক্ত তৃণমূল নেতারা। লাঠি ও রড দিয়ে তাঁকে মারধরের পাশাপাশি সাহাবুদ্দিন ওরফে দানি তাঁকে লক্ষ্য করে বন্দুক তাক করেন বলেও অভিযোগ। পথচলতি মানুষের চিৎকারে দুষ্কৃতীরা গৌরবাবুর মাথায় বন্দুকের বাঁট দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। ওই দিনই জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ তদন্তে নামে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে হানা দেয় জামালপুর থানার পুলিশ। সেখান থেকেই আত্মগোপন করে থাকা ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিণ) অভিষেক মণ্ডল জানিয়েছেন, মূল অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বুধবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হলে বিচারক শেখ সাহাবুদ্দিন এবং তাবারক আলি মণ্ডলের ৫ দিনের পুলিশ হেপাজত মঞ্জুর করেছেন। গাড়ির চালককে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
নিজেদের দলের নেতাদের গ্রেপ্তারিতে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়লেও জামালপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি মেহেমুদ খাঁন বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মামলার সব তথ্য না জেনে তিনি কোনও মন্তব্য করবেন না। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন আক্রান্ত বিজেপি নেতা গৌরসুন্দর মণ্ডল। জেলা জুড়ে বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে আরও ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
