জামালদহ: ছোটবেলা থেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছিল মেধাবী ছেলেটি। অবশেষে সেই স্বপ্নপূরণ হতে যাচ্ছে। এ বছর সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষায় সফল হয়ে গ্রামের নাম উজ্জ্বল করল মেধাবী শীর্ষলেন্দু। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মেডিকেলে পড়ার স্বপ্ন এখন বাস্তব রূপ নিয়েছে। নিজের চেষ্টা, পরিবারের সদস্য সহ শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় অদম্য মেধাবী এ শিক্ষার্থী নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। কোচবিহার জেলার এমজেএন মেডিকেল কলেজে (MJN Medical Faculty) পড়ার সুযোগ পেয়েছে সে।
কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের জামালদহ (Jamaldaha) গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত সীমান্তবর্তী ২০২ খাসবস দ্বারিকামারি এলাকায় বাড়ি শীর্ষলেন্দু রায়ের। কোনও বাধাই দমিয়ে রাখতে পারেনি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বেড়ে ওঠা শীর্ষলেন্দুর শিক্ষাজীবনের পথ চলাকে। তিন ভাই বোনের মধ্যে সে মেজো। বাবা সুশীল চন্দ্র রায় পেশায় ওষুধ ব্যবসায়ী, মা কবিতা রায় একজন গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় যথেষ্ট মেধাবী ছিলেন শীর্ষলেন্দু। তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু হয় স্থানীয় জামালদহ দ্বারিকামারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরবর্তিতে জওহর নবোদয় বিদ্যালয় তুফানগঞ্জ থেকে ২০১৯ সালে দশম ও নবোদয় বিদ্যালয় নালন্দা, বিহার থেকে ২০২১ সালে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় ভালো ফল করে উত্তীর্ণ হয় সে। এরপর থেকে সে নিজ লক্ষ্য স্থির রেখে নিট পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। পর পর তিনবার অসফল হয়েও নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিল সে। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবছর সফল হয়ে স্বপ্নপূরণ। তার এই সাফল্যে খুশির হাওয়া গ্রামের বাড়িতে।
আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকা সত্ত্বেও কখনও ছেলেমেয়েদের সেই কষ্ট বুঝতে দেননি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী বাবা সুশীল চন্দ্র রায়। কষ্ট উপেক্ষা করেও আসায় বুক বেঁধে ছিলেন একদিন মেধাবী এই ছেলে গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করবে। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, ছেলে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পাওয়ার আনন্দে চোখে জল বাবা মায়ের।
শীর্ষলেন্দু জানায়, লক্ষ্য স্থির থাকলে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সফল হওয়া সম্ভব। প্রথমে কয়েকবছরে ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় অনেকেই অনেক কথা বলেছিল। কিন্তু আমি ভেঙে পড়িনি। তাই কলেজে ভর্তি না হয়েও আমি বাড়ির বাইরে থেকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছিলাম। বাবা মাই আমাকে অনেক সাহস যুগিয়েছে। একটা কথাই সবাইকে বলব জীবনে অসফল না হলে সাফল্যের আনন্দ অনুভব করা যায় না। বাবা সুশীল চন্দ্র রায় জানান, সীমিত আয়ের মধ্যে দিয়েই ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছি। এখন ছেলে একজন ভালো ডাক্তার হয়ে সমাজের কাজে আসলে আমার বাবা হিসেবে লড়াই টা সার্থক হয়ে উঠবে।’
