জলপাইগুড়ি: এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও রাস্তাঘাট সংস্কারের দাবিতে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদে কংগ্রেস পঞ্চায়েত সদস্যের আমরণ অনশন (Jalpaiguri Starvation Strike) ঘিরে বুধবার রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। একদিকে যখন ওই কংগ্রেস সদস্য প্রশাসনের আশ্বাসে অনশন প্রত্যাহার করেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই আবাস যোজনার নাম কেটে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁর নিজের বাড়িতেই চড়াও হয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
জলপাইগুড়ির খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সানুপাড়ার কংগ্রেস পঞ্চায়েত সদস্য গণেশ ঘোষ বুধবার দুপুরে “আমরণ অনশন” লেখা ব্যানার গলায় ঝুলিয়ে সোজা তৃণমূল পরিচালিত জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদ চত্বরে অনশনে বসে পড়েন। তাঁর অভিযোগ ছিল, বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও সানুপাড়ার বেহাল রাস্তাঘাট এবং পানীয় জলের সংকটের কোনো সুরাহা হয়নি। পাশাপাশি ভাটাখানার জলাভূমি ভরাটের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হন তিনি।
খবর পেয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি কৃষ্ণা রায় বর্মণ অবিলম্বে কংগ্রেসি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। পূজোর পরেই দ্রুত রাস্তা সংস্কার, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং জলাভূমি ভরাটের অভিযোগ খতিয়ে দেখার কড়া আশ্বাস দেওয়া হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ দীনেশ মজুমদার ও পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নূরজাহান বেগম জল খাইয়ে তাঁর অনশন ভঙ্গ করান। তবে গণেশ ঘোষ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে পূজোর পর আবার বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন।
জেলা পরিষদ থেকে অনশন তুলে বাড়ি ফিরতেই উলটো চাপের মুখে পড়েন ওই কংগ্রেস সদস্য। তাঁর বাড়িতেই চড়াও হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, আবাস যোজনা প্রকল্পের তালিকায় যোগ্য সুবিধাভোগীদের নাম বাদ দিয়ে পক্ষপাতিত্ব করেছেন ওই পঞ্চায়েত সদস্য।
এই বিক্ষোভের নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি করেছেন খোদ গণেশ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, তিনি যাতে জেলা পরিষদে অনশনে বসতে না পারেন, সেই জন্যই বিজেপি পরিকল্পনা করে এই বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল।
কংগ্রেস নেতার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির মণ্ডল ৪-এর সহ-সভাপতি দীপংকর দত্ত পালটা তোপ দেগে বলেন, “বিজেপির নির্দেশেই বিক্ষোভ হয়েছে—এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ওই কংগ্রেস সদস্য নিজেই উন্নয়নের কাজে ব্যর্থ এবং বেছে বেছে স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের আবাস প্রকল্পের তালিকা থেকে নাম কেটে বঞ্চিত করেছেন। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা ও দলের কর্মীরাই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলেন।”
উন্নয়নের দাবিতে অনশন এবং তার পরেই আবাস দুর্নীতি নিয়ে ঘরের দরজায় বিক্ষোভ—জলপাইগুড়ির খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

