Jalpaiguri Circuit Bench | উত্তরবঙ্গের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের উদ্বোধন – Uttarbanga Sambad

Jalpaiguri Circuit Bench | উত্তরবঙ্গের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের উদ্বোধন – Uttarbanga Sambad

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে সূচিত হল এক সোনালি অধ্যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের রাজকীয় উদ্বোধন (Jalpaiguri Circuit Bench) হল। শনিবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করা হয়। এই উদ্বোধনের ফলে উত্তরবঙ্গের মানুষকে আইনি বিচার পাওয়ার জন্য আর বারবার কলকাতায় ছুটে যেতে হবে না।

এই অত্যাধুনিক সার্কিট বেঞ্চ ভবনটি আধুনিক স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta Excessive Courtroom) প্রধান বিচারপতি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। ভার্চুয়ালি বা সশরীরে উপস্থিত থেকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলেন বিচারবিভাগীয় উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এর ফলে জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং দুই দিনাজপুরের বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হলো।

২০১২ সালে জলপাইগুড়ি স্পোর্টস কমপ্লেক্স ময়দানে একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী পরিকাঠামোর শিলান্যাস হয়েছিল। পরবর্তীতে জলপাইগুড়িতে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর অস্থায়ী পরিকাঠামোতে ২০১৯ সালে সার্কিট বেঞ্চের কাজ শুরু হয়। ওই একই বছর পাহাড়পুর এলাকাতেও শুরু হয় স্থায়ী পরিকাঠামো তৈরির কাজ। ৪০ একর জমির ওপর জলপাইগুড়ি পাহাড়পুর এলাকায় ৩১ডি জাতীয় সড়কের পাশে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। বর্তমানে জলপাইগুড়ি শহরের স্টেশন রোডে জেলা পরিষদের বাংলোতে অস্থায়ী পরকাঠামোতে চলছে সার্কিট বেঞ্চ। স্থায়ী পরিকাঠামোতে সার্কিট বেঞ্চের মূল ভবনটি পাঁচ তলার তৈরি হয়েছে।

জেলা পরিষদের অস্থায়ী পরিকাঠামোতে রয়েছে চারটি আদালত কক্ষ। সেই জায়গায় আগামীতে স্থায়ী বেঞ্চের পরিকাঠামোর কথা মাথায় রেখে ১৩টি আদালত কক্ষ তৈরি করা হচ্ছে। ৫ টি ডিভিশন বেঞ্চ এবং ৭ টি সিঙ্গেল বেঞ্চের পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির আদালত সহ মোট ৫টি আদালত তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি আদালত তৈরি কাজ চলছে। স্থায়ী পরিকাঠামোতে বিচারপতিদের জন্য আলাদাভাবে গ্রন্থাগার তৈরি হচ্ছে। সেই সঙ্গে তৈরি হবে আইনজীবিদের জন্য বার লাইব্রেরী।

জেলা পরিষদে সার্কিট বেঞ্চের অস্থায়ী পরিকাঠামোতে আইনজীবিদের বসার জন্য যে ঘরটি রয়েছে সেটি প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই ছোট। যেকারণে স্থায়ী পরিকাঠামোতে আইনজীবীদের জন্য তিনটি বসার ঘর তৈরি হচ্ছে। সেই সঙ্গে মহিলা আইনজীবীদের জন্য আলাদা ভাবেও তিনটি বসার ঘর থাকছে স্থায়ী পরিকাঠামোতে। এছাড়াও আলাদাভাবে আইনি পরিষেবা কেন্দ্রের অফিস তৈরি হয়েছে স্থায়ী পরিকাঠামোতে। স্থায়ী পরিকাঠামোতে আদালতের বিভিন্ন মামলার তথ্য সংরক্ষিত রাখতে আধুনিক রেকর্ড রুমের পাশাপাশি থাকবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংরক্ষণের জন্য আলাদা ডাটা সেন্টার। এছাড়াও স্থায়ী পরিকাঠামোতে তৈরি হয়েছে অ্যাডভোকেট জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল, সলিসিটার জেনারেলের, অতিরিক্ত সরকারি আইনজীবীদের অফিস।

স্থায়ী পরিকাঠামোতে আদালত ভবনে প্রবশের জন্য ৭টি দরজা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও মূল রাস্তা থেকে সার্কিট বেঞ্চ চত্ত্বরে ঢোকার জন্য চারটি গেট তৈরি হয়েছে। আদালত চত্ত্বরে রয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য তিনটি আলাদা জায়গা। বর্তমানে বিচারপতিরা জুবলিপার্ক এবং রেসকোর্সপাড়া তিস্তা ভবনে অস্থায়ী পরিকাঠামোতে থাকছেন। পাহাড়পুর এলাকায় স্থায়ী পরিকাঠামোতে প্রধান বিচারপতি সহ অন্যান্য বিচারপতিরদের জন্য ১০টি বাংলো তৈরি হচ্ছে। যার মধ্যে ইতিমধ্যে তিনটি বাংলো নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে সার্কিট বেঞ্চের কর্মীরা রাজবাড়িপাড়ার কম্পোজিট কমপ্লেক্সের সরকারি আবাসনে থাকছেন। এই কর্মীদের জন্য পাহাড়পুরর স্থায়ী পরিকাঠামোতে ৭টি বহুতলে মোট ৮০টি ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও সার্কিট সার্কিট বেঞ্চের জন্য অডিটরিয়াম, বিচারপতিদের ক্লাব, পুলিশ ব্যারাক তৈরি হচ্ছে। সার্কিট বেঞ্চের জন্য আলাদাভাবে একটি থানাও তৈরি হবে ওই এলাকাতে। যেখানে একজন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার অফিসার থাকবেন। এছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকের শাখা, এটিএম এবং পোস্ট অফিসের শাখা তৈরি হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *