কালচিনি: প্রায় ১০ দিন পর স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হল কালচিনি চা বাগানে (Kalchini Tea Backyard)। বাগান কর্তৃপক্ষের তরফে বকেয়া মজুরি মিটিয়ে দেওয়ার পরই কাজে যোগ দেন শ্রমিকরা। ইদের আগে বকেয়া মজুরি হাতে পেয়ে খুশি শ্রমিকরাও।
কালচিনি চা বাগানের শ্রমিক আশরাফুল আনসারির চোখমুখ বেশ উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। তাঁর কথায়, ‘সামনেই ইদ। মজুরি বকেয়া থাকায় প্রবল উদ্বেগে ছিলাম। কীভাবে পরিবারের সকলকে ইদে নতুন জামাকাপড় কিনে দেব, ভেবেই পাচ্ছিলাম না। এবার মজুরি হাতে পেয়ে স্বস্তি এল। এখন সবাই মিলে খুশির ইদ পালন করতে পারব।’
বকেয়া মজুরির দাবিতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কালচিনি চা বাগানের শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাগানের সব শ্রমিককে বকেয়া মিটিয়ে দেয় বাগান কর্তৃপক্ষ। তারপরই শুক্রবার সকালে কাজে যোগদান করেন শ্রমিকরা। প্রায় ১০ দিন বাগানে স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ থাকার পর শুক্রবার থেকে ফের ছন্দে ফেরে বাগানটি। বাগানের মালিক ঋত্বিক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, শ্রমিকদের সব বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার পর শ্রমিকরা কাজে ফেরায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও।
চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকে বকেয়া পাক্ষিক মজুরির দাবিতে শ্রমিকরা কর্মবিরতি চালাচ্ছিলেন। মজুরি সময়মতো মিটিয়ে দেওয়ার দাবিতে তার কয়েকদিন আগে থেকেই অবশ্য শ্রমিকরা গেট মিটিং করছিলেন। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের দাবি মেনে শ্রম দপ্তরের তরফে ১৮ মার্চ আলিপুরদুয়ারের ডেপুটি শ্রম কমিশনারের দপ্তরে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকা হয়। সেখান থেকেও শ্রম আধিকারিক বাগানের মালিককে দ্রুত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তারপরেও বকেয়া না মেটানোয় ১৯ মার্চ থেকে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিকরা। অবশ্য দ্রুত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল বাগান কর্তৃপক্ষ। যদিও মালিকপক্ষের আশ্বাসে সাড়া না দিয়ে শ্রমিকরা কর্মবিরতি জারি রাখেন।
এবার বকেয়া মজুরি নিয়ে জট কাটায় সিটুর আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) জেলা সাধারণ সম্পাদক বিকাশ মাহালি বলেন, ‘মজুরি মিটিয়ে দেওয়ায় আমরা খুশি। তবে ৭ এপ্রিল ফের মজুরি দেওয়ার দিন রয়েছে। আমরা দাবি করব, শ্রমিকদের যেন সঠিক সময়ে মজুরি মিটিয়ে দেওয়া হয়।’ তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি ওমদাস লোহরার মতে, ‘সময়মতো মজুরি পেলে শ্রমিকরা সন্তুষ্ট থাকেন। মজুরি না পেলে শ্রমিকদের খুব সমস্যায় পড়তে হয়। এখন থেকে যাতে সঠিক সময়ে নিয়মিত মজুরি দেওয়া হয়, মালিকপক্ষের কাছে আমরা সেই দাবি রাখব।’ সময়মতো মজুরি না পাওয়ায় শ্রমিকরা বাগানের মালিকানা পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন। তবে মজুরি মেলায় বাগানের শ্রমিকরা এখন সন্তুষ্ট। বাগান সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার থেকেই মালিকপক্ষের তরফে মজুরি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল।
