শুভদীপ শর্মা, ক্রান্তি : ফের ভুল চিকিৎসায় শিশুমৃত্যুর অভিযোগ। এই ঘটনায় যুক্ত এক ফার্মাসিস্টের চেম্বার ভাঙচুর করা হল। ক্রান্তি ব্লকের চাঁপাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসুসুবা এলাকার ঘটনা। ক্রান্তি ফাঁড়ির পুলিশ ওই ফার্মাসিস্টকে আটক করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ওই শিশুর ভুল চিকিৎসা করা হয়নি বলে আটক ফার্মাসিস্টের দাবি। ক্রান্তি ফাঁড়ির ওসি কেটি লেপচা বলেন, ‘শিশুর পরিবারের তরফে এখনও কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
বাসুসুবা মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা বিকাশ রায় ও সাবি রায়ের তিন বছরের ছেলে জিসান রায় গত বুধবার থেকে পেটের সমস্যায় ভুগছিল। বিকাশ জানান, বাসুসুবা বাজারে নিজেকে ফার্মাসিস্ট পরিচয় দেওয়া নুর আলমের কাছে তাঁরা তাঁদের শিশুর চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। ওই ব্যক্তি শিশুটিকে বেশ কয়েকটি ওষুধ দিলেও তার শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ। শুক্রবার সকালে বিকাশ ও তাঁর স্ত্রী মিলে তাঁদের শিশুকে ফের ওই ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান। নুর আলম সেখানে ওই শিশুকে একটি ইনজেকশন দেন। তাতে শিশুর শারীরিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। বিকাশরা বিকেলে তাঁদের সন্তানকে জলপাইগুড়ি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। শিশুটি সেখানেই মারা যায়। ওই শিশুর মৃত্যুর কারণ হিসেবে হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেটে চিকিৎসক ‘শক উইথ গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল হেমারেজ ইন কেস অফ ডায়াবিটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস’ লিখেছেন। অর্থাৎ ডায়াবিটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসের কারণে রোগীর শরীরে তীব্র শক (রক্তচাপ খুব নীচে নেমে যাওয়া, অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্ত না পৌঁছানো) হয় এবং তার সঙ্গে পাচনতন্ত্রে রক্তক্ষরণ।
নুর আলম এদিন সকালে তাঁর চেম্বার খুললে উত্তেজিত জনতা সেখানে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। ওই চেম্বারে ভাঙচুর চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মহাদেব রায় বলেন, ‘নিজেকে সার্জন বলে নুর আমাদের কাছে পরিচয় দেন। কারও হাত–পা কেটে গেলে তিনি চেম্বারেই রোগীকে ওষুধ, স্যালাইন দেন।’ বিক্ষোভের খবর পেয়ে ক্রান্তি ফাঁড়ির পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যায়। নুরের দাবি, ‘চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি হয়নি। শিশুটিকে ঠিক ওষুধই দিয়েছিলাম। তা খেয়ে ও কিছুটা সুস্থও হয়ে উঠেছিল।’
মাল মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক দীপঙ্কর করের বক্তব্য, ‘চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনও ফার্মাসিস্ট নিজে থেকে কাউকে ওষুধ দিতে পারেন না। ওই ফার্মাসিস্ট কীভাবে চেম্বার খুলেছেন তা জানা নেই।’
