Jalpaiguri | মানুষ-বুনো সংঘাত রুখতে ফলের গাছ

Jalpaiguri | মানুষ-বুনো সংঘাত রুখতে ফলের গাছ

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি: মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত কমাতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে বন দপ্তর। জঙ্গলের মধ্যে ফলের গাছ লাগিয়ে বন্যপ্রাণীদের জন্য খাবার তৈরি করার কথা ভাবা হয়েছে। খাবারের খোঁজে মাঝেমধ্যে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে হানা দেয়। এই ঘটনা আটকাতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর জন্য বন দপ্তর নিজস্ব নার্সারিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ তৈরি করছে। আগামী বর্ষার মরশুমে এইসব ফলের গাছগুলি বিভিন্ন বনাঞ্চলে লাগানো হবে। বনকর্তাদের ধারণা, এই গাছগুলিতে ফল ধরতে শুরু করলে খাদ্যের সন্ধানে বন্যপ্রাণীরা আর লোকালয়ে ঢুকবে না। ফলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত অনেকটা কমে যাবে।

জলপাইগুড়ির একাধিক রেঞ্জে ইতিমধ্যে বন্যপ্রাণীদের প্রিয় ফলের গাছের চারা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। কাঁঠাল, চালতা, আমলকী, জাম, লটকা, পেয়ারা সহ প্রায় ২৫ রকম প্রজাতির ফলের গাছের চারা ইতিমধ্যে তৈরি করে ফেলেছে বন দপ্তর। জলপাইগুড়ি ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার (ডিএফও) বিকাশ ভি বলেন, ‘এই গাছের চারাগুলি পরীক্ষামূলকভাবে লাগানো হবে। সাধারণত ১০ একর জমিতে আড়াই হাজার গাছ লাগানো হয়। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ শাল গাছ এবং বাকি ৪০ শতাংশ ফলের গাছ থাকবে। এই গাছগুলি বড় হয়ে ফল দিতে আট থেকে দশ বছর সময় লাগবে। তারপর বোঝা যাবে এই উদ্যোগের কতটা সুফল মিলছে।’

যখনই লোকালয়ে বন্যপ্রাণী চলে আসে তখন সবচেয়ে বেশি একটা কথাই শোনা যায় তা হল, জঙ্গলে খাদ্যের অভাব। তাই হাতি, হরিণ, বাঁদরের মতো একাধিক প্রাণী খাদ্যের খোঁজে বারবার লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এতে যেমন ফসলের ক্ষতি হয়, তেমনি মানুষ ও প্রাণীর সংঘাতও বেড়ে যায়। বিশেষ করে হাতির হানা এখন বন দপ্তরের কাছে সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়। পাশাপাশি ডুয়ার্সের বহু এলাকায় বাঁদরের দল প্রায়ই উপদ্রব করে। পরিবেশপ্রেমী ও বন বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, জঙ্গলে খাদ্যের অভাব এই সমস্যার মূল কারণ। চলতি বছর ৫ অক্টোবর পাহাড়ে টানা বৃষ্টির জেরে যখন জলঢাকা নদীতে প্রবল জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল তখন জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) প্রায় ৪৮ হেক্টর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তারপর থেকে লোকালয়ে হাতির হানা আরও বেড়ে গিয়েছে। ময়নাগুড়ি শহর, ওদলাবাড়ি, নাগরাকাটা সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় লোকালয়ে হাতি ঢোকার ঘটনা বেড়ে গিয়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত বনভূমিতে নতুন গাছ লাগানোর পাশাপাশি বন্যপ্রাণীদের জন্য ফলের গাছ লাগিয়ে খাদ্যের সংস্থান করা হচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *